করোনা বিপজ্জনক চট্টগ্রাম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

করোনা বিপজ্জনক চট্টগ্রাম

আরিচ মাহামুদ, চট্টগ্রাম ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ০৫, ২০২০

print
করোনা বিপজ্জনক চট্টগ্রাম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিপজ্জনক এলাকায় পরিণত হয়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। প্রতিদিন দুশ’র বেশি মানুষের শরীরে শনাক্ত হচ্ছে করোনা। নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। অবাধ চলাচল ও স্বাস্থ্যবিধি না মানা এর জন্য দায়ী বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মহানগর ও জেলায় একশ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হওয়া অনেক এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। এরপর দুইমাসের মধ্যে করোনা সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে চট্টগ্রামে। তাতে বাড়ছে শঙ্কা। ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজার। নগরীর অধিকাংশ এলাকায় একশ’র বেশি আক্রান্ত হওয়ায় ওইসব এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫শ’ ৩৭ জন। মারা গেছেন ৮৫ জন। চট্টগ্রাম করোনার জন্য বিপজ্জনক এলাকা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার আশংকার কথা বলছেন নগর বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিক্ষাবিধ ড. মোঃ হাসিনুর রহমান খান।

তিনি গবেষণা করে দেখেছেন আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭ হাজারে পৌঁছাবে। এর জন্য হাসপাতালে বেডের প্রয়োজন হবে ১ হাজার ৩শ’ ৭০টি। আর আইসিউর প্রয়োজন হবে ৪শ’ ১১টি। সুস্থ হবে প্রায় ৪শ’ জন। তার মতে লকডাউন শিথিল করার পর বাণিজ্যিক রাজধানীর ব্যস্ততা বেড়েছে আগের চেয়ে বহুগুণ। বন্দর কেন্দ্রীক কাজে গতি পেয়েছে। গার্মেন্টগুলোর কার্যক্রম বেড়েছে শতভাগ। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে শিথিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতি ১শ’ জনে ৩ জন মৃত্যুবরণ করছেন। আক্রান্তের সংখ্যার গতি পেয়েছে জ্যামিতিক হারে।

নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনার চিকিৎসা মিলছে না। পাশাপাশি অন্য রোগীরাও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। দুই মাস আগ থেকে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত চেম্বার যেমন বন্ধ করে দিয়েছেন তেমনি বেসরকারি হাসপাতালগুলো ঘিরে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা। এতে অনেকে মারা যাচ্ছেন চিকিৎসা না পেয়ে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান জানান, প্রাইভেট হাসপাতাল করোনার রোগী ভর্তি করছে না। করোনা রোগী বাড়লেও বেসরকারি হাসপাতালের আইসিউ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারি নির্দেশনার পর বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে বলে জানায় বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডন্টে সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, নির্দেশনা পাওয়ার পর বেসরকারি হাসপাতাল কাজ শুরু করেছে। আগামীকাল শনিবার থেকে ৩০ বেডের একটি আলাদা আধুনিক ওয়ার্ড চালু করা হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউ বেড বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানোর কাজ করছে সরকার।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড এর পাশাপাশি চমেক হাসপাতালে ৫টি আইসিইউ বেডে কাজ শুরু হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল পার্কভিউতে ২টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। যদিও এ মুহূর্তে চট্টগ্রামে আড়াইশ’র বেশি আইসিইউ বেডের চাহিদা রয়েছে।

করোনায় চিকিৎসার অভাবে শতাধিক লোক মারা যাওয়ায় চট্টগ্রামের নাগরিক উদ্যোগ নামের একটি সংগঠন আইনি লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, দুর্যোগ সময়কে টার্গেট করে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা স্বেচ্ছাচারিতা করছেন।