রাঙ্গামাটি পর্যটনে আড়াই মাসে ৮৬ লাখ টাকা গচ্চা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

রাঙ্গামাটি পর্যটনে আড়াই মাসে ৮৬ লাখ টাকা গচ্চা

মিশু দে, রাঙ্গামাটি ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৪, ২০২০

print
রাঙ্গামাটি পর্যটনে আড়াই মাসে ৮৬ লাখ টাকা গচ্চা

‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত পর্যটন করপোরেশনের ঝুলন্ত ব্রিজ আকর্ষণ করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। প্রতিদিনই এখানে ঘুরতে আসেন অসংখ্য পর্যটক। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশের পর্যটন ও বিনোদন স্পটগুলোর মতো রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পট ও মোটেলগুলোও প্রায় আড়াই মাস বন্ধ। এতে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা আয় হারিয়েছে রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশন। এ অবস্থা চলতে থাকলে বছরের শেষে অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসে এই ক্ষতি দাঁড়াবে ৪ কোটি ১১ লাখ টাকা।

রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন কান্তি বড়–য়া জানিয়েছেন, মার্চের ১৮ তারিখে পর্যটন স্পটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসার পর আমরা সব পর্যটককে বিদায় দিই। তখন থেকে আমাদের সব বন্ধ। মে মাসের ১২ দিনে আমাদের অনেক বুকিং বাতিল করে দিতে হয়েছে, এই ১২ দিনে আমরা আয় হারিয়েছি ১৬ লাখ টাকা। পরবর্তী এপ্রিল ও মে মাসে ৩৫ লাখ করে ৭০ লাখ টাকা আয় হারিয়েছি। এখনো যদি আমাদের মোটেলে তেমন বুকিং না পাই এবং পর্যটন স্পটের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে তাহলে জুন মাসে ৩৫ লাখ, জুলাই ও আগস্ট ৪৫ লাখ করে এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই চার মাসে ৫০ লাখ টাকা করে আয় হারাবো।

শুধু পর্যটন করপোরেশন নয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা রাঙ্গামাটির বিভিন্ন ঝরনা ও পর্যটন স্পট থেকেও প্রতিদিন প্রচুর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তেমনিভাবে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা পর্যটন স্পটগুলো। আর পর্যটন স্পটগুলোর সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে গড়ে ওঠা রকমারি পণ্যের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় চাকরি চলে যাচ্ছে অনেক কর্মচারীর।

রাঙ্গামাটির হোটেল-মোটেলগুলো খোলা হলেও এখনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে পর্যটন স্পটগুলোর ওপর, যার কারণে হোটেল-মোটেলগুলো খোলার পরও তেমন একটা আয়ের মুখ দেখছে না।

পাশাপাশি রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের আনাগোনার সঙ্গে সঙ্গে আয় বাড়ে নাপিত, ধোপা, মুদি দোকান, ট্যুরিস্ট বোর্ট, লঞ্চ, কৃষিজ পণ্যের বিক্রেতা, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের দোকান থেকে শুরু করে প্রায় ১৭টি খ্যাতের সঙ্গে নিয়োজিতদের। তাদেরও দিন যাচ্ছে স্থানীয়দের চাহিদা পূরণের মধ্য দিয়ে।

রাঙ্গামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের আনাগোনা থাকলে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়। কিন্তু এখন যেহেতু পর্যটকের আনাগোনা নেই, পর্যটন স্পটের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে সেহেতু আমরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হোটেল খুলেছি।

যখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে তখন প্রশাসনের দিকনির্দেশনা মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত দুই মাসে বৈশ্বিক এই মহামারীর কারণে সারা দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতো আমাদেরও ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ অনেক।