বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে পেটানো সেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে পেটানো সেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

চকরিয়া প্রতিনিধি ৭:২২ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৩, ২০২০

print
বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে পেটানো সেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা বয়োবৃদ্ধকে উলঙ্গ করে নির্যাতনকারী সেই যুবলীগ নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। আওয়ামী যুবলীগ ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সেলিম রেজা মিটু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রমিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য আনছার আলম দলীয় দাপট দেখিয়ে প্রবীন মুরব্বি ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও কাউন্সিলর নুরুল আলমকে প্রকাশ্যে দিবালোকে লুঙ্গী টেনেহিঁচড়ে নেংটা করে মারধর করে। এ সময় কয়েকজন যুবক তা মোবাইলের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে। তবে কেউ এগিয়ে আসেনি ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে। এভাবেই হেনস্থা করা হয়েছে বয়োবৃদ্ধ নুরুল আলমকে।

মঙ্গলবার (২ জুন) স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কারাদেশ থেকে জানা যায়- যুবলীগ একটি সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল দল। এখানে দলের নাম ব্যবহার করে উশৃংখলতা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়না।

স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ একটি সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল দল। এখানে দলের নাম ব্যবহার করে উশৃংখলতা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়না।

উল্লেখ্য, উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য আনছুর আলম দলীয় দাপট দেখিয়ে প্রবীন মুরব্বী ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ও কাউন্সিলর বয়োবৃদ্ধ নুরুল আলমকে প্রকাশ্যে দিবালোকে লুঙ্গী টেনেহিঁচড়ে ও গেঞ্জি ছিড়ে বিবস্ত্র  করে মারধর পূর্বক চরম অপদস্ত করেন। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয় কুড়িটিক্কা এলাকায় যুবলীগ নেতা আনছুর আলম কর্তৃক নির্যাতনের এ ঘটনাটি মোবাইল ক্যামরায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝেও তীব্র ক্ষোভ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করে। এ ন্যাক্কার জনক ঘটনার পর গত ৩১ এপ্রিল বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদি হয়ে ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে আসামী করে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়।