চিন্তার ভাঁজ টেরিবাজারের ব্যবসায়ীদের কপালে

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

চিন্তার ভাঁজ টেরিবাজারের ব্যবসায়ীদের কপালে

চট্টগ্রাম ব্যুরো ২:০০ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২০

print
চিন্তার ভাঁজ টেরিবাজারের ব্যবসায়ীদের কপালে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার টেরিবাজারের প্রায় দুই হাজার দোকান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ দিন ধরে এসব দোকানপাট বন্ধ থাকায় এবারের ঈদ বাজারের চিত্র একবারেই ভিন্ন। লকডাউনের বন্দিদশায় আটকা পড়েছে ঈদের কেনাবেচা। ঈদ উপলক্ষে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার পোশাক এনে চরম বিপাকে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ব্যবসায়ীদের কপালের ভাঁজ ততই বাড়ছে। এইভাবে চলতে থাকলে পুঁজি হারিয়ে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর টেরিবাজারে ঈদের দুই মাস আগে থেকেই কেনাবেচা শুরু হয়। সেজন্য প্রতি বছরের মত ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ও সমিতি থেকে লোন নিয়ে কয়েক মাস আগে থেকে দেশ ও বিদেশ থেকে মালামাল গুদামে স্টক করেছেন। শুধু ঈদ কেন্দ্রিক টেরিবাজারে লেনদেন হয় হাজার কোটি টাকা। বলতে গেলে সারা বছর যে পরিমাণ বেচাকেনা হয় ঈদ মৌসুমে তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি বেচাকেনা হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

টেরিবাজার নূর মার্কেটের পাইকারি থান কাপড় বিক্রেতা ইউসুফ মিয়া বলেন, ঈদের দুই মাস আগে থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা মালামাল নিয়ে থাকেন। করোনাভাইরাসের কারণে বিক্রির সময় থেকে সাধারণ ছুটির কারণে দোকান বন্ধ। এক গজ কাপড়ও বিক্রি করতে পারিনি। প্রতি রমজানের ঈদে ৪-৫ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এবার এক টাকাও বিক্রি করতে পারিনি। এক কোটি টাকা বাকি টাকা আদায় করার কথা থাকলেও এক টাকাও টাকা আদায় করতে পারিনি।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান জানান, টেরিবাজারে কেনাবেচা শুরু হয় ঈদের দুই মাস আগে থেকে। এখানে সারা বছর যে পরিমাণ কেনাবেচা হয় রমজান মাসে ঈদ উপলক্ষে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বেচাকেনা হয়। ঈদ উপলক্ষে টেরিবাজারে লেনদেন হয় হাজার কোটি টাকা। ঈদ উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা ব্যাংক লোন নিয়ে দেশ বিদেশ থেকে পোশাক এনে স্টক করেছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে চরম ক্ষতির মুখে আমরা দিশেহারা।

তিনি বলেন, টেরিবাজারের এক একটা শোরুমে ৭০ থেকে ১০০ জন কিংবা বড় শো-রুমে আরও বেশি কর্মচারী রয়েছে। প্রায় দুই হাজার দোকানে কর্মচারী রয়েছে ১৫ হাজারের মতো। কিন্তু দীর্ঘদিন দোকান ও শো-রুম বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন ভাতা নিয়ে চরম কষ্টে আছেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হয় বলা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারি প্রণোদোনার আওতায় আনতে হবে।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা ক্ষতিপূরণ চাচ্ছি না, আমাদের জন্য যে প্রণোদোনা ঘোষণা হয়েছে সেটা যেন পাই।