ক্যাম্পে করোনা আক্রান্ত ৫ রোহিঙ্গা, আতঙ্কে ৩৬০ স্থানীয় পরিবার

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ক্যাম্পে করোনা আক্রান্ত ৫ রোহিঙ্গা, আতঙ্কে ৩৬০ স্থানীয় পরিবার

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) ৪:১৩ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

print
ক্যাম্পে করোনা আক্রান্ত ৫ রোহিঙ্গা, আতঙ্কে ৩৬০ স্থানীয় পরিবার

কক্সবাজারের উখিয়ায় ১৪ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত চারদিন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে করোনা আক্রান্ত রোগি সনাক্ত করা হয়েছে। সনাক্ত হওয়া একজনসহ এ পর্যন্ত পাঁচজন রোহিঙ্গা শরণার্থী করোনায় সংক্রমিত হয়েছে।

চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত সেবা সংস্থাগুলো এসব আক্রান্ত ব্যক্তিদের নজরদারিতে না রেখে তথ্য গোপন করায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করছে। এ কারণে তাদের সংস্পর্শে আসা লোকজনের কারণে কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্প এলাকায় ৩৬০টি পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। 

স্থানীয়দের দাবি করোনা পজেটিভ রোগিদের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া না হলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দিকে ধাবিত হতে পারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং তৎসংলগ্ন এলাকা।

জানা যায়, গত শনিবার কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে স্যাম্পল টেস্টে ১৮৪ জনের মধ্যে ২৪ জনের রিপোর্ট পজেটিভ পাওয়া গেছে। পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া ২৪ জনের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ছয়জন, চকরিয়া উপজেলায় আটজন, পেকুয়া উপজেলায় একজন, উখিয়া উপজেলায় সাতজন তৎমধ্যে রোহিঙ্গা শরনার্থী একজন, বান্দরবানের লামা উপজেলায় একজন রোগি রয়েছে।

কক্সবাজার আরআরআরসি অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা এমআর ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত রোগিকে ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পৃথক করে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে স্থাপিত আইসোলেশন হাসপাতালে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্থানীয় ইউপি সদস্য মৌলভী বখতিয়ার আহমদ বলেন, রোহিঙ্গার কারণে এমনিতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় লোকজন। তার ওপর আবার করোনা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পে যাদের শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া যাচ্ছে তাদের ব্যাপারে স্বাস্থ্য সেবা সংস্থাগুলো যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেনা। যেমন করোনার স্যাম্পল নিয়ে রোগিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, পরে রিপোর্ট পজেটিভ আসলে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রায় এক হাজার ৯০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ শয্যার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পরিচালিত হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।