খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চাষের জমিতে তামাকের আবাদ

খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে

এম মনছুর আলম, চকরিয়া (কক্সবাজার) ১২:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২০

print
খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার গোলাপ নগরী বরইতলী ইউনিয়নে এবার তামাক চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। এতদিন কৃষকরা তামাকের পরিবর্তে বিকল্প ফসল ফুলের চাষ করলেও এ বছর হঠাৎ করে সেখানে তামাক চাষের পরিধি বেড়ে চলছে। এ অবস্থার কারণে খাদ্য উদ্বৃত্ত এ উপজেলায় অদূর ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় গবেষণা সংস্থা উবিনীগ।

সংস্থার কর্মকর্তা খাঁন জয়নাল আবেদিন বলেন, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নটি সারা দেশে পরিচিত গোলাপের গ্রাম হিসেবে। সেই পরিচয় এখন মলিন হতে চলেছে। গোলাপের রাজ্যে এখন চলছে তামাকের ভয়াবহ আগ্রাসন। বরইতলী গ্রামে এখন গোলাপ আর তামাক চাষের অবস্থান পাশাপাশি।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। সেটি করতে ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য উদ্বৃত্ত চকরিয়া উপজেলায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়বে। এতে ফসলি জমি বিলুপ্ত হবে দিনদিন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার মধ্যে শুধু বরইতলী ইউনিয়নে গোলাপের চাষ হয়। এই ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে বর্তমানে ৫০ একর জমিতে গোলাপের চাষ হচ্ছে। তামাকের চাষ হচ্ছে পাঁচ একর জমিতে। গোলাপ চাষের সঙ্গে অন্তত ৩০০ জন চাষি ও শ্রমিক জড়িত আছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাসিম হোসেন বলেন, চলতি বছর উপজেলায় তামাকের চাষ কমেছে বলে দাবি করেছেন। তবে তার বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায়নি বরইতলী এলাকায় গিয়ে। সেখানে গত বছরের চেয়ে এবার তামাকের চাষ বেশি দেখা গেছে।

চাষিরা বলছেন, বাজারে কাগজের ফুল ও চীনা ফুলের কদর বেড়ে যাওয়ায় আসল গোলাপের চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে প্রতিবছর লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা। অন্যদিকে তামাক চাষে লাভ বেশি। এ কারণে চাষিরা তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।

বরইতলী ফুল বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম বলেন, ৩৫ বছর ধরে বরইতলী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফুল যাচ্ছে। তবে প্রতিবছর ফুলের চাষ কমছে।