পাহাড়ি ফুলঝাড়ু

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

পাহাড়ি ফুলঝাড়ু

কৌশিক দাশ, বান্দরবান ৩:২৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

print
পাহাড়ি ফুলঝাড়ু

ঘরবাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজে জুড়ি নেই পাহাড়ি ফুলঝাড়ুর। গ্রাম থেকে শুরু করে শহর বন্দরের প্রায় সর্বত্রই রয়েছে এর কদর। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড় থেকে নারী ও পুরুষ ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসে বিক্রির উদ্দেশ্যে। জুমে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার কৃষিপণ্যের সঙ্গে ফুল ঝাড়ু হয়ে ওঠেছে তাদের বাড়তি উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম।

পাহাড়ে উৎপন্ন ফুলঝাড়ু বিক্রি করে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছে দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবার। ফুলঝাড়ু তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক নকিব বলেন, প্রতি বছরই আমরা দুই থেকে তিন মাস ফুলঝাড়ুর কাজে জড়িত থাকি। দৈনিক ৫০০ টাকা বেতনে কাজ করি। এ মৌসুমটা আমাদের জন্য অত্যন্ত ভালো।

ফুল ঝাড়ু শ্রমিক সোলেমান বলেন, ফুলঝাড়ুর কাজে আমাদের তেমন কষ্ট হয় না। আমরা ফুলঝাড়ুগুলো রোদে শুকাই আর পরে আটি বেঁধে ট্রাকে বোঝাই করি। জেলা সদর ছাড়াও লামা, আলীকদম, রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকেও পাইকাররা ভিন্ন ভিন্ন দামে সংগ্রহ করে থাকেন ফুলঝাড়ু। আর সংগ্রহের পর খোলা আকাশের নিচে রাখা হয় শুকানোর জন্য। তারপর চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা করে কাটা ১০ থেকে ১২টি ফুল দিয়ে তৈরি করা হয় প্রতিটি ঝাড়ু।

ফুলঝাড়ু ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন সিকদার বলেন, আমরা প্রতি বছরই ফুলঝাড়ুর ব্যবসা করে থাকি। এ ব্যবসা করে আমাদের সংসার বেশ ভালো চলে। আমরা প্রথমে পাহাড় থেকে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করি। তারপর সব এক জায়গায় সংগ্রহ করে শুকিয়ে আটি বেঁধে ট্রাকে করে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করি। এক ট্রাক ফুলঝাড়ু বিক্রি করে আমাদের ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হয়।

বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, এ ফুল ঝাড়ুর কোনো সঠিক তথ্য কোনো বিভাগের কাছে নেই। প্রতি বছর এ সময়ের দুই তিন মাস বান্দরবানের কয়েকজন ব্যবসায়ী বান্দরবান থেকে এ ফুল ঝাড়ু দেশের নানা প্রান্তে সরবরাহ করে লাভবান হয়।