কুবিতে পাহাড় কেটে ইমারত নির্মাণ

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

কুবিতে পাহাড় কেটে ইমারত নির্মাণ

খালেদ মোর্শেদ, কুবি প্রতিনিধি ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

print
কুবিতে পাহাড় কেটে ইমারত নির্মাণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড় কাটা থেমে নেই। পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে একের পর এক পাহাড় কাটছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষক ক্লাব কাম গেস্ট হাউস নির্মাণ কাজের জন্য পাহাড় কাটা শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এজন্য পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি। এতে পরিবেশ বিপন্নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় হারাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এর আগেও পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কেটে মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। 

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইনের ২০১০-এর ৬-এর ‘খ’ ধারায় বলা হয়েছে ‘কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না, তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে পাহাড় কর্তন করা যাইবে।’ কুমিল্লা পরিবেশ অধিদফতরের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা মাত্র জেনেছি। আমাদের দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উত্তর পাশের পাহাড় কাটা মাটিগুলো ট্রাকে করে নির্মিত ভবনের নিচু জায়গায় দেওয়া হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় পাহাড় ধসের আশংকা রয়েছে।

লাল পাহাড়ি ক্যাম্পাস বলে শিক্ষার্থীরা গর্বের সঙ্গে পরিচয় দিতেন সবার কাছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অপরিকল্পিত উন্নয়নে একের পর এক পাহাড় সাবাড় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভেতরে জন্ম নিচ্ছে তীব্র ক্ষোভ।

শিক্ষার্থী জানান, পাহাড়ি ক্যাম্পাসটি প্রশাসনের বেখেয়ালি মনোভাবের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে অনুরোধ করবো এই পাহাড়গুলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য। একে রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘শিক্ষক ক্লাব ও গেস্ট হাউস ভবনের বেইজমেন্ট কাটছে। পাহাড় কাটার সংবাদ শুনে সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছি। তারা জানিয়েছে ক্যাম্পাসের কোথাও পাহাড় কাটা হয়নি।’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনকে সামনে রেখে মাঠের উত্তর পাশের পাহাড় কাটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারও আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের একটি অংশ কেটে ফেলা হয়। সেই মাটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্মাণাধীন সড়কদ্বীপ ও ডরমেটরির নিচু স্থান ভরাট করেছে প্রশাসন।