ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

ভবন নির্মাণে গাফিলতি

ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকা

এম মনছুর আলম, চকরিয়া (কক্সবাজার) ১:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

print
ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকা

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা এলজিইডি বিভাগের অর্থায়নে ছয় কোটি ৩৯ লাখ ৯১ হাজার ১৩৮ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণকাজ কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছিলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নুর সিন্ডিকেট। কার্যাদেশ মতে কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এক বছর। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা এবং কাজের তদারকে নিয়োজিত সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে এখনো দৃশ্যমান হয়নি নতুন উপজেলা পরিষদ ভবনের নির্মাণ কাজ।

ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে এলজিইডির বেঁধে দেয়া সময় আছে আর মাত্র ছয়দিন। ধীরগতির কারণে গত এক বছর সময়ে ভবন নির্মাণে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি। তবে ইতোমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের বিপরীতে চারদফায় এক কোটি ১২ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে নিয়ে গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ভবন নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০১৮ সালের ১১ জুলাই। ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছিলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নুর সিন্ডিকেট। কাজ সমাপ্তির জন্য বলা হয়েছে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর। এ হিসেবে ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্নের সময় রয়েছে মাত্র আটদিন। কিন্তু উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ কাজটি কবে নাগাদ শেষ হবে বা কতদিনে সম্পন্ন হবে তা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারছেনা।

কাজের ধীরগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ কাজের শুরুতে বর্ষার কারণে তারা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ এগোতে পারেননি। তবে ঠিকাদার এ পর্যন্ত চার দফায় এক কোটি ১২ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। বাকি কাজ গুলো দ্রুত সম্পন্নের জন্য আমরা বার বার তাগদা দিচ্ছি।

এলজিইডির চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল বলেন, নতুন উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ কাজটি আমি চকরিয়া স্টেশনে আসার আগে টেন্ডার হয়েছে। নানা জটিলতার কারণে সঠিক সময়ে ঠিকাদারকে আমরা কাজের কার্যাদেশ দিতে পারিনি। সেই কারণে একটু কাজের ধীরগতি হয়েছে। তবে এখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানেও যথেষ্ট গাফেলতি আছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলেও বর্তমানে ভবন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি বেশ সন্তোষজনক। অবশ্য কাজটি স্বচ্ছতার মাধ্যমে সমাপ্ত করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং আছে।