নুসরাত হত্যা, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নুসরাত হত্যা, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি

ফেনী প্রতিনিধি ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

print
নুসরাত হত্যা, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি

ফেনী জেলা কারাগারে পৃথক কনডেম সেল না থাকায় নুসরাত হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলে পাঠাতে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফেনী জেলা কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়। সোমবার (২৮ অক্টোবর) ফেনী জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রফিকুল কাদের গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

ফেনী জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলা কারাগারে কোনো কনডেম সেল নেই। এজন্য নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর জন্য আইজি প্রিজনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারণ কুমিল্লা কারাগারে অনেকগুলো কনডেম সেল রয়েছে। সেসব কনডেম সেল ফাঁকা থাকলে আসামিদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ফাঁকা না থাকলে কাশিমপুরসহ যেসব কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেল ফাঁকা রয়েছে, সেখানে আসামিদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে তার মায়ের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে কৌশলে মাদরাসার প্রশাসনিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ৮ এপ্রিল নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চারজনকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। আসামি করা হয় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজকে।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আসামিদের। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধ্যক্ষের নির্দেশে তার অনুসারীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে তাকে হত্যা করেছেন।

তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ১৬ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে গত ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ২৪ অক্টোবর মামলার রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।