তারুণ্যের শক্তিতে মানব পাচার রুখবোই

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কক্সবাজারে পিয়ার লিডারদের শপথ

তারুণ্যের শক্তিতে মানব পাচার রুখবোই

মাহমুদল হক জিহাদ ৫:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

print
তারুণ্যের শক্তিতে মানব পাচার রুখবোই

মানব পাচার আন্তর্জাতিক সমস্যা। বর্তমানে প্রতিটি মানুষই মানব পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা) এর আয়োজনে বাংলাদেশ কাউন্টার ট্রাফিকিং-ইন-পারসনস (বিসিটিআইপি) প্রোগ্রামে’র আওতায় দু’দিনের প্রশিক্ষণ গত ২০ ও ২১ অক্টোবর’১৯ পরিচালিত হয়।

‘মানব পাচার প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণটি উখিয়া ও টেকনাফের ২০ জন পিয়ার লিডারের সমন্বয়ে বিটা’র বিসিটিআইপি প্রকল্প হোয়াইক্যং কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০২২) বাস্তবায়নে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ প্রণয়ন করে। যেখানে বিভিন্ন ধরণের শাস্তি ও জরিমানা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

সরকারের কর্মপরিকল্পনাকে গতিশীল করার পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থা উইনরক এই আইনের বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ২০টি জেলায় তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে পিয়ার লিডারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষদের বিদেশ গমনে সরকারের বিএমইটি ও ডেমো অফিসের নানাবিধ প্রশিক্ষণ সম্পর্কে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিটা টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ২০ জন পিয়ার লিডারকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

তরুণদের মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক জনসচেতনতামূলক নাটক, গান সাংস্কৃতিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে তৃণমূল থেকে মানুষকে সচেতন করাই প্রশিক্ষণের একমাত্র লক্ষ্য।

মানব পাচার দেশে ও বিদেশে যেকোন স্থানেই ঘটতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় একজন মানুষ নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমেই বেশী পাচারের শিকার হয়। যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশী প্রলোভনের শিকার হয়। বর্তমানে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের অবস্থান এই অঞ্চলকে আরও বেশী ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

তার সাথে এখানকার অসাধু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কিছু দালাল চক্রের কারণে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা। দুই দিনের প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী পিয়ার লিডারগণ ‘তারুণ্যের শক্তিতে মানব পাচার রুখবোই’ এই শপথ বাক্য পাঠ করেন।

দুই দিনের সেশনে মানব পাচার, অভিবাসন ও মানব চোরাচালানের মধ্যে পার্থক্য, অভিবাসনের সাথে সম্পৃক্ত সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার সেবা, মানব পাচার ঘটনায় অধিকার লঙ্ঘন, মানব পাচারের ভিক্টিম সনাক্ত করণ, সার্থক অভিবাসনে বাধাসমূহ ও বিবেচ্য বিষয়, বাল্যবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা ও কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করা হয়।

দুইদিনের প্রশিক্ষক হিসেবে উইনরকের সাজ্জিদ আহমেদ, প্রকল্প সমন্বয়কারী সুমন সেন, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার মাহমুদল হক জিহাদ, কেইস ওয়ার্কার জয়নাল আবেদিন ও রওশন আর চৌধূরী সেশন পরিচালনা করেন।

এছাড়াও বিসিটিআইপি উইনরকের ইউএসএ সিনিয়র অডিট ম্যানেজার রগো পিটার, বাংলাদেশের টিম লিডার নজরুল ইসলাম, কক্সবাজারের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কে.এম, মহসিনুজ্জামান ও বিটার নির্বাহী পরিচালক জনাব শিশির দত্ত ও বিটার নির্বাহী কমিটির সদস্য মৌসুমী চোধুরী প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করেন।