গ্রাম বাংলার শীতলপাটি

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গ্রাম বাংলার শীতলপাটি

ইকবাল হোসেন সুমন, নোয়াখালী ৫:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

print
গ্রাম বাংলার শীতলপাটি

গ্রীষ্মে শীতল পাটিরশীতল অনুভূতি গ্রাম-বাংলার মধ্যবিত্ত গৃহে শুধু অপরিহার্যতার পরিচয় বহন করে এমন নয় বরং রেওয়াজ-নীতির ধারক ও বাহকও বটে। আর এই শীতল পাটির যে উপকরণ তা হলো মোস্তাক গাছের বাকল বা ছাল। কেউ বলে সুরতা, কেউবা বেতি কিংবা মোস্তাক গাছ। এক নজর দেখলে যে কেউ চিনতে পারবেন প্রকৃতির এই সম্পদকে। এটি একেক জায়গায় একেক নামে পরিচিত।

এর ছাল বা বাকল দিয়ে তৈরি হয় শীতলপাটি, চাটাই ও পাখাসহ নিত্য ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র। কুবের পত্নীর নাম ছিল সুরতা। সেখান থেকে নামটি এসেছে কিনা সে ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। তবে প্রকৃতির এ সম্পদকে সবাই ওই নামেই ডাকে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় এক সময় সুরতা জন্মাতো। আর নোয়াখালী জেলায় এর নাম মোস্তাক গাছ।

এখন সুরতা আনতে হয় ভারত থেকে। অবহেলা আর অযত্নের ফলে প্রকৃতির এ সম্পদ গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শীতলপাটিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদাতো আর কমেনি। ফলে ভারত থেকে চোরাই পথে সুরতা আসছে। চোরাকারবারিরা এ সুযোগ ষোল আনা ব্যবহার করছে। সুরতা আর মোস্তাক গাছ আগের মতো প্রচুর না জন্মালেও অনেকে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে মোস্তাক গাছের ঝাড় বা বাগান। সাধারণত পুকুর, ডোবা বা জলাশয়ের পাড়ে এ গাছ বেশি জন্মে। গাছটি উৎপাদনে কোনো প্রকার সার, ওষুধ বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। ফলে প্রায় বিনা খরচে সহজেই এ গাছের বংশবৃদ্ধি সম্ভব। বছরের যে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক গাছের মূল বা মাথা কেটে অন্যত্র রোপণের মাধ্যমে এর বংশ বৃদ্ধি সম্ভব। চারা গজায়, গাছটি প্রায় ৪/৫ হাত লম্বা হয়।

মোস্তাক গাছের ছাল বা বাকল দিয়ে তৈরি শীতল পাটির দাম হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এর চাষাবাদ এবং উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর সহজে বাজারজাত করণের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার ধারক শীতলপাটি শিল্পের আরও উন্নতি সম্ভব বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।