নিজেই পঙ্গু ফেনী ট্রমা সেন্টার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

নিজেই পঙ্গু ফেনী ট্রমা সেন্টার

ফেনী প্রতিনিধি ৫:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৪, ২০১৯

print
নিজেই পঙ্গু ফেনী ট্রমা সেন্টার

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় হতাহত কিংবা পঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে ফেনী শহরের মহিপালে নির্মাণ করা হয়েছে ফেনী ট্রমা সেন্টার। চিকিৎসক এমনকি প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি নিজেই পঙ্গু হয়ে পড়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানি না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার সারাদেশে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে মহাসড়কের পাশে পাঁচটি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করে। ২০০৬ সালের অক্টোবরে হাসপাতালটি স্বাস্থ্য বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। শুরুর দিকে কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও ক্রমেই তারা অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এতে করে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের এখানে আনা হয় না। হাসপাতাল গেটের সামনে থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড রয়েছে। ১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় সরকারের বিশেষ এ উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ফেনী-নোয়াখালী সড়কের অফিসার্স কোয়ার্টারের বিপরীতে ফেনী ট্রমা সেন্টার। হাসপাতালের গেটের সামনে রয়েছে সারি সারি সিএনজি অটোরিকশা। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে ভিতরে প্রবেশ কষ্টসাধ্য। নেই কোনো গেটম্যান। এখানে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন জুনিয়র এনেস্থেসিয়া, একজন জুনিয়র অর্থপেডিক কনসালটেন্ট, আটজন নার্স, একজন আয়া ও দুজন ওয়ার্ড বয় থাকার কথা রয়েছে। এসব পদের মধ্যে শুধুমাত্র চারজন নার্স রয়েছেন। অপর চারজন প্রশিক্ষণে অন্যত্র অবস্থান করছেন। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ট্রমা সেন্টারটি চালুর নিয়ম থাকলেও বিকেল ৪টায় বন্ধ হয়ে যায়।

ট্রমা সেন্টার চালুর চার বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকলেও বিল বকেয়া থাকায় গত ৯ বছর সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একইভাবে গ্যাস সংযোগটিও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এখানে দুজন চিকিৎসক রয়েছেন। এদের একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী সানজিদা আক্তার, অন্যজন মেডিকেল অফিসার ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। কর্মরতদের কেউ গত ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।

ট্রমা সেন্টারের পাশে অবস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, এটি কিসের অফিস শতকরা ২০ জন লোকও জানে না। জয়নাল আবেদিন নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, আমরা প্রতিদিন এখানে গাড়ি পার্কিং করি। এখানে কোনো রোগী আসতে দেখি না। তবে কয়েকজন মহিলাকে মাঝে মাঝে এখানে ঢুকতে দেখি তারা কি ডাক্তার নাকি নার্স তাও জানি না।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজজামান বলেন, জনবল সৃষ্টির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।