নদীপাড়ে মুসল্লিদের নামাজ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

নদীপাড়ে মুসল্লিদের নামাজ

মেঘনার ভাঙনে কমলনগর

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ৯:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

print
নদীপাড়ে মুসল্লিদের নামাজ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা বিলীন হওয়ার পথে। গত কয়েকদিনে মেঘনার গর্ভে চলে গেছে সরকারি বেসরকারি একাধিক স্থাপনা ও ফসলি জমি আর ঘরবাড়ি। বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ-মাদ্রাসার ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা চলে গেছে নদীর ভয়াবহ ভাঙনে। এ ভাঙন থেকে কমলনগর উপজেলাকে রক্ষা করতে গত শুক্রবার নদীপাড়ে হাজার মুসল্লিদের নিয়ে এক সাথে জুমার নামাজ আদায় ও বিশেষ দোয়া করা হয়।

এসময় উপস্থিত সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের কাছে স্থানীয়রা উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের ৭ নম্বর, পাটারীরহাট ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে স্থয়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করলে এসব এলাকাকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করা যাবে। যেভাবে রামগতি উপজেলাকে রক্ষা করা হয়েছে।

জানা গেছে, মেঘনায় ভাঙছে ৩৭ কিলোমিটার এলাকা। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একযোগে পুরো অঞ্চলের কাজ শুরু করলে ভাঙন রক্ষা করা সম্ভব হবে। বর্তমানে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম থাকায় সেগুলো ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে।

জানা যায়, উপকূলীয় কমলনগর এলাকার ৩৭ কিলোমিটার নদী গর্ভে। এ মৌসুমীতে নদী ভাঙন থেকে উপজেলাকে রক্ষা করতে না পারলে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মসজিদ মাদ্রাসা ভেঙে মানুষ হয়ে যাবে সর্বহারা। মাথা রাখার ঠাঁই নেই এ অঞ্চলের জনসাধারণের। সব কিছু হারিয়ে বেড়ির পাশে কোন রকম বসবাস করছেন তারা।

রামগতি বাঁচাও মঞ্চের আহবায়ক এডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, বসতি-বাড়ি হারিয়ে এলাকার মানুষ হয়ে পড়েছে সর্বহারা। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভর। ফসলি জমি হারানোর কারনেই বেকার জীবন যাপন করতে হয় নদী ভাঙা মানুষগুলোর। স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা না গেছে এবছরেই হারাতে হবে কমলনগরের পশ্চিমাংশ।

সংসদ মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ততের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে অতিদ্রুত একটি বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।