লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভাঙন অব্যাহত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভাঙন অব্যাহত

জামাল উদ্দিন রাফি, লক্ষ্মীপুর ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

print
লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভাঙন অব্যাহত

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে সরকারি বেসরকারি একাধিক স্থাপনার। ঘর বাড়ি আর ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়ে বেকার জীবন যাপন করছে হাজার মানুষ। বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মসজিদ মাদ্রাসার ভবন ভেঙে যাচ্ছে নদীতে ভয়াবহ ভাঙনে। তীব্র স্রোতের মেঘনা নিয়ে যাচ্ছে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগের নির্মাণাধীন ৪শ মিটার বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার।

হুমকির মুখে নদী তীরবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি দ্বিতল ভবন, পাকা মসজিদ ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন। এসব ভবনের অর্ধেকই নদীর মধ্যে পড়ে যেতে দেখা গেছে। ফলে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার সাধারণ মানুষ। এদিকে, নদীরপাড়ে প্রতিমুহুর্তে দেখা যায় ভাঙনের খেলা। এ ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়ে স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্পর অনুমোদন দেয়। প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির আওতায় সেখানকার ৪শ মিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। কাজটি শুরু হওয়ার পর এলাকাবাসী নতুন করে স্বপ্ন দেখে। কিন্তু গত কয়েকদিনে মেঘনার ভাঙনের তীব্রতা এলাকাবাসীর নতুন স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে।

সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, লক্ষ্মীপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুছা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। বাঁধ তীরবর্তী এলাকা ছাড়াও চরফলকন ইউনিয়নের ৭ নম্বর, পাটারীরহাট ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মেঘনার তীব্র ভাঙন চলছে। গত দুই সপ্তাহে ওইসব এলাকার বেশ কয়েকটি বসতবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কমলনগর রামগতি বাঁচাও মঞ্চের আহবায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, এ অঞ্চলে ৩৭ কিলোমিটার এলাকা ভাঙছে। সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে একযোগে পুরো অঞ্চলের কাজ শুরু করলে ভাঙন রক্ষা করা সম্ভব হবে। বর্তমানে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম থাকায় সেগুলো ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে।

একদিকে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করলে অন্যদিকে ভাঙছে। শেষ পর্যন্ত জিও ব্যাগও নদীতে চলে যায়। তিনি দ্রুত নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সৃদুষ্টি কামনা করেছেন।

লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর-রামগতি) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান বলেন, ভবনগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। ইতোমধ্যে সেখানে আরও ১৫ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।