কারাগারে মা হলেন নুসরাত হত্যার আসামি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

কারাগারে মা হলেন নুসরাত হত্যার আসামি

ফেনী প্রতিনিধি ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

print
কারাগারে মা হলেন নুসরাত হত্যার আসামি

ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি থাকা নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কামরুন নাহার মনি কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন। তিনি এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পাঁচ মাস ধরে কারাগারে আছেন।

জেলা কারাগারের জেলার দিদারুল আলম জানিয়েছেন, শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বন্দি কামরুন নাহার মনির প্রসব ব্যথা শুরু হলে দ্রুত তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মনির কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ আছেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় মনি যখন গ্রেফতার হন, তখন তিনি প্রায় পাঁচমাসের গর্ভবতী ছিলেন। মামলাটির বিচার কাজ শুরু হলে মনিকে প্রতি কার্য দিবসে আদালতে হাজির করা হয়। তার আইনজীবী কয়েকবার জামিন চাইলেও আদালত নামঞ্জুর করেন।

অন্তঃসত্ত্বা থাকার কারণে তিনি নিজে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে বিচার কাজে অংশ নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত সেটাও নামঞ্জুর করেন।

পরে মনির আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবু তাহেরের নেতৃত্ব গঠিত তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড ২৪ সেপ্টেম্বর তার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দিয়ে তাকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ উপেক্ষা করে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।

একপর্যায়ে কাতর কণ্ঠে মনি আদালতে বলেন, আদালতে আসতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। তারপর বিচারক মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন পেয়েছেন জানিয়ে তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।

ফেনী হাসপাতালে থাকা মনির মা নুর নাহার বলেন, মনি অসুস্থ থাকলেও নবজাতক সুস্থ আছে। অসুস্থ অবস্থায় ডাক্তার তাকে রিলিজ করে দিয়েছেন। মনিকে কারাগারে নিয়ে গেছে।

ফেনী জেনারেলের হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবু তাহের বলেন, মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন। কারা কর্তৃপক্ষ মাকে নিয়ে গেছে।

নুসরাত হত্যা মামলার বিচার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে চলিত সপ্তাহে রায়ের দিন ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ মামলায় মনি দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে বিচার কাজ শুরু হলে আদালতে জবানবন্দির বিরুদ্ধে ডিনাই পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশনে পিবিআইর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও পেটে লাথি মারার হুমকি দিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ করেন।

মামলার অভিযোগপত্র অনুসারে, মাদ্রাসার সাইক্লোন সেল্টারের ছাদে যে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে নুসরাতকে আগুন লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, মনি তাদের একজন।