কুমিল্লায় পাহাড়খেকো ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

কুমিল্লায় পাহাড়খেকো ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া

খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯

print
কুমিল্লায় পাহাড়খেকো ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া

সাবাড় হয়ে যাচ্ছে লালমাই পাহাড়। পাহাড়-টিলা রূপ নিচ্ছে সমতল ভূমিতে। অবাধে মাটি কাটার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গহিনবনও। কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে রাতের আঁধারে পাহাড়খেকো ভূমিদস্যুরা চালাচ্ছে এই প্রকৃতি নিধনযজ্ঞ। অমূল্য প্রত্মসম্পদে ভরা লালমাই পাহাড়। সুউচ্চ টিলাজুড়ে বৃক্ষরাজি ও জীববৈচিত্র্যের সমাহার। ওই পাহাড়ের প্রায় ৬০ ফুট উঁচু একটি টিলা কেটে ফেলা হয়েছে। তিন বছর ধরে টিলার প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার মাটি কাটা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, কুমিল্লা অঞ্চলের পাহাড়গুলোর ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিকভাবে গঠন-গড়ন বালুমাটির এবং সেগুলো অত্যন্ত নরম, শিথিল। এতে করে বর্ষায় বৃষ্টির পানি ভাঙা পাহাড়ের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে গেলেই বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠে। কুমিল্লার ঐতিহাসিক লালমাই পাহাড় কাটা থেমে নেই।

পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও প্রতিদিনই অবাধে এই পাহাড়ের কোন না কোন স্থান থেকে মাটি বিক্রি’র সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। ফলে হারিযে যাচ্ছে ইতিহাস, ঐতিহ্য। একই সঙ্গে প্রতিদিনই পাহাড়ের কোথাও না কোথাও কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়ি-ঘর।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী লালমাই-ময়নামতি পাহাড় দুটি লালমাই ও বড়ধর্মপুর মৌজায় অবস্থিত। তারমধ্যে লালমাই মৌজা নামের অংশটি পড়েছে ময়নামতি পাহাড়ে আর বড় ধর্মপুর মৌজাটি লালমাই পাহাড়ের অংশ নিয়ে। বড়ধর্মপুর মৌজাটি প্রায় ৪ হাজার একর এবং লালমাই মৌজাটি প্রায় ১০ হাজার একর ভূমির উপর বিস্তুত। এই পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া প্রায় ১০০ মিটার উচূঁ।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্র আরও জানায়, লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের সর্বপ্রথম নির্মিত স্থাপনা সার্ভে ইনষ্টিটিউট। এরপর ময়নামতি সেনানিবাস, ওয়ার সিমেট্রি, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড), প্রত্নতত্ব অফিস, ৩৩ বিজিবি হেড কোয়ার্টার, লালমাই ডিগ্রি কলেজ, সড়ক ও জনপথ বাংলো, চট্রগ্রাম বিভাগীয় স্কাউটস অফিস, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, লালমাই গ্যাস ফিল্ড (তাল্লো), সামোয়ান এলকে ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানী লিমিটেডসহ আরও বেশকটি প্রতিষ্ঠান।

এছাড়াও পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে ঝুলানো হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রস্তাবিত সাইনবোর্ড। উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে রয়েছে কয়েক হাজার একর জমি। এসকল ভূমি ছাড়া বন বিভাগের অধিন কয়েক’শ একর জমির বাইরে পাহাড়ের অধিকাংশ জমির মালিক সাধারণ মানুষ। বিগত ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম চালু হলে এখানে ভূমির মূল্য বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিভিল, পুলিশসহ সকলেই জানে কারা মাটি কেটে বিক্রি করছে। তবে কারোরই যেন কিছু বলতে নেই। তবে কিছু না বলার কারনে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বশীলরা পাচ্ছেন নিয়মিত অর্থ। আর এভাবে প্রতিদিনই চলছে পাহাড় কাটা। পরিবর্তন হচ্ছে লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের শ্রেণি পরিবর্তন।

পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক ছামছুল আলম বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে টিলা কাটার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।