পেকুয়ায় বন্যা আতঙ্কে ১০ হাজার মানুষ

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

পেকুয়ায় বন্যা আতঙ্কে ১০ হাজার মানুষ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ৭:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

print
পেকুয়ায় বন্যা আতঙ্কে ১০ হাজার মানুষ

কক্সবাজারের উপকূলীয় জনপদে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধে উপচে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকছে অনায়সে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশ এলাকার জনবসতি, লবণ মাঠ ও চিংড়ি উৎপাদন ক্ষেত্র। এ অবস্থায় জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধের কারণে বর্তমানে বন্যা আতঙ্কে রয়েছে ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার মানুষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না করায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাছাড়া যেকোন মূহুর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়াতে পারে। বর্তমানে বেড়িবাঁধের অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে একজন মানুষও তার ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে ভয় পায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, ইউনিয়নের মগনামা লঞ্চঘাট থেকে শরত ঘোনা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ উপচে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। জোয়ারের পানির ধাক্কায় ক্রমশ ভাঙছে বেড়িবাঁধ। ভাঙনের কবলে কোথাও কোথাও মাত্র এক থেকে দেড় ফুট অবশিষ্ট রয়েছে। এতে বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ওইসব এলাকার মানুষ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বর্তমানে যেটুকু বেড়িবাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে, তা খুব কম সময়ে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সামুদ্রিক জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে ইউনিয়নের বাজারপাড়া, বহদ্দারপাড়া, শরত ঘোনা ও উত্তরপাড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বেশ কয়েকটি চিংড়ি ঘের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কার্যাদেশ পেয়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মগনামা ইউনিয়নের ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ শুরু করে উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠান দুই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ৬ কিলোমিটার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করলেও সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রেখে দেয় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির এমন অবহেলায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে শত কোটি টাকার সরকারি এ উন্নয়ন প্রকল্প। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও আইলার আঘাত এখনো সামলে উঠতে পারেনি মগনামার মানুষ। বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০১৫-১৮ সাল পর্যন্ত মগনামা ইউনিয়ন অন্তত ১০বার প্লাবিত হয়েছে। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো।

দুর্যোগের পর সরকার মগনামা ইউনিয়নে অন্তত ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে। এখন ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে বর্ষায় পানি ঢুকলে এসব উন্নয়নকাজ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে এলাকাবাসীর।

বান্দরবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, মগনামা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ অধিকাংশ সংস্কার করা হয়ে গেছে। তবে বেড়িবাঁধের সামান্য কিছু অংশ এখনো সংস্কার করা হয়নি। এটি দ্রুত সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।