মেঘনায় ভাঙন হুমকিতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

মেঘনায় ভাঙন হুমকিতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ৬:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
মেঘনায় ভাঙন হুমকিতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বর্ষা এলেই মেঘনায় ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয়। এবার ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে চর ফলকন ইউনিয়নের লুধূয়া এলাকা। গত দুমাসের ভাঙনে এ ইউনিয়নের অন্তত দুইশ পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে ফসলি জমি, বাজার, মসজিদসহ শতশত ঘরবাড়ি।

ভাঙনের মুখে রয়েছে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিকসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। এছাড়াও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা।

তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা হাজিরহাট উপকূল কলেজের সহকারী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, প্রায় শত বছরের পুরনো বাড়িটি নদীতে ভাঙছে। ভাঙনে কেবল বাড়িঘরই নয়, ছিন্ন হচ্ছে পরিবারিক ও সামাজিক বন্ধন। গত এক দশকের ভাঙনে তাদের পরিবারের ১২০ একর ফসলি জমি নদীর পেটে চলে গেছে। লুধূয়া বাজারের ২৫টি দোকানঘর বিলীন হয়েছে। ফসলি জমি, বাজারের দোকান নদীগর্ভে গেলেও দুঃখ অনুভব করিনি। কিন্তু বসতভিটা হারানোর শোক সইতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

ওই বাড়ির অনেক স্মৃতি প্রতি মুহূর্তে তাড়া করবে, যন্ত্রণা দেবে। ঠিকাদারের অবহেলার কারণে তাদের বাড়ির বিশাল অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চর ফলকন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী হারুনুর রশীদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। আষাঢ়-শ্রাবণ গত দুই মাসে চর ফলকন গ্রামের অন্তত দুইশ’ পরিবার ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে। তালুকদার বাড়ি ভাঙছে, মীর বাড়িও ভাঙতে শুরু করেছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুসা বলেন, ভাঙনরোধে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ভাঙনের গতি অনেক বেশি; তবুও ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা অব্যাহত আছে। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ঠেকাতে লুধূয়া এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।

যে স্থানে ভাঙন সে স্থানেই ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে। বর্ষা শেষে নভেম্বর মাসে রামগতি ও কমলনগরের ৩২ কিলোমিটার নদী তীর রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করা হবে। কাজ বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী।