কুকুরের মুখে নবজাতক উদ্ধার করল পুলিশ

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

 কুকুরের মুখে নবজাতক উদ্ধার করল পুলিশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১০:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

print
  কুকুরের মুখে নবজাতক উদ্ধার করল পুলিশ

চট্টগ্রামে কুকুরের মুখ থেকে বেওয়ারিশ এক নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে পুলিশ। আবিষ্কার করেছে শিশুটির মাকেও। গত মঙ্গলবার ভোরে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে এ শিশুকন্যাকে উদ্ধার করেন ডবলমুরিং থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, রাতের ডিউটি শেষে আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে ভোর ৫টায় ফোর্স নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। এ সময় সড়কের বিপরীত দিকে আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংকের সামনে তিনটি কুকুরকে কিছু একটা নিয়ে টানাটানি করতে দেখি। এগিয়ে দেখি একটি সদ্যোজাত শিশু। হাত পা নাড়াচাড়া করে কাঁদছিল।

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সময়ক্ষেপণ না করে রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক নারীর সাহায্য নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি। রাস্তার একটি অস্থায়ী চায়ের দোকান থেকে কাপড় নিয়ে বাচ্চাটার শরীরে জড়িয়ে নিয়ে দ্রুত আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাই। দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর চমেক হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাদামতলী মোড়ে জনতা ব্যাংকের সামনে এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখি। স্থানীয়রা জানায়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। এখানে রাস্তায় থাকেন। তার নাম আয়েশা। তার শরীর রক্তাক্ত দেখে বুঝলাম এটাই সেই প্রসূতি।

এসআই মোস্তাফিজ বলেন, আনুমানিক ২৫-২৭ বছর বয়সী ওই নারীকে বাচ্চার কথা জিজ্ঞাসা করতেই শুধু রাস্তার উল্টো দিকে দেখাচ্ছিলেন। যেখানে বাচ্চাটিকে কুকুরগুলো নিয়ে টানাটানি করছিল। তখন ধারণা করে নিলাম, উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির মা এই নারী। মাসহ শিশুটিকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, বাচ্চাটি সুস্থ আছে। নারীটিকে ৩৩ নম্বর গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান বলেন, শুধু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা নয়, জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশ সবসময় যে আছে তার প্রমাণ দিয়েছে এসআই মোস্তাফিজ। মানবতা যেখানে বিপন্ন সেখানে এ পুলিশ সদস্য সত্যিকারের দেবদূত হয়ে দুটি প্রাণকে বাঁচালেন নিঃস্বার্থভাবে।

এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাচ্চাটিকে বুকের দুধ দিচ্ছেন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক নারী। মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটি ওয়ার্ডে হাঁটাহাঁটি করছেন। ওয়ার্ডে আরেক প্রসূতি নারী নবজাতকের দেখভাল করছেন।