চাঁদপুরে দুই জুট মিল বন্ধ বেকার কয়েকশ শ্রমিক

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬

চাঁদপুরে দুই জুট মিল বন্ধ বেকার কয়েকশ শ্রমিক

চাঁদপুর প্রতিনিধি ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০১৯

print
চাঁদপুরে দুই জুট মিল বন্ধ বেকার কয়েকশ শ্রমিক

দেড়-দুমাস ধরে বন্ধ রয়েছে চাঁদপুর শহরের স্বনামধন্য পুরানবাজার ডব্লিউ রহমান জুট মিলস ও স্টার আলকায়েদ জুট মিলস লিমিটেডের উৎপাদন। এতে মিলের প্রায় কয়েকশ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা বেকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সামনে ঈদ, আদৌ মিল দুটি চালু হবে কি না এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা।

ডব্লিউ রহমান জুট মিলের ভাড়াটিয়া সাহারা জুট মিলের প্রোডাকশনের দায়িত্বে থাকা নাহিদ শেখ জানান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা পাবে ১২ দিনের মজুরি। গত ২১ জুন সকালে কোনো কারণ উল্লেখ না করে নোটিস টানিয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় ভাড়াটিয়া ঢাকা লালমাটিয়ার সাহারা জুট মিলস কর্তৃপক্ষ।

ডব্লিউ রহমান জুট মিলে পাট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রতিনিধি বিশ্বনাথ কুমার রনি জানান, সাহারা জুট মিলের কাছে আমরা পাট বাবদ ৪৩ লাখ টাকা পাব। তারা বলছে, তাদের ফান্ড নেই। পাট বেপারিদের টাকা মেরে দিয়ে সাহারা জুট মিলের মালিক পক্ষের লোকজন পালিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বশির মিয়া জানান, প্রকৃত মিল মালিকরা মিল চালালে এ সমস্যা হতো না।

অপরদিকে, সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার মালিকানাধীন স্টার আল-কায়েদ জুট মিলসও প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এ মিলের নোটিস বোর্ডে মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত একটি নোটিস টানিয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করা হয়। নোটিসে জানানো হয়, মিলের রিপেয়ার্স ও মেইনন্টেন্যান্স কাজের জন্য গত ১ জুলাই থেকে মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্টার আলকায়েদ মিল কর্তৃপক্ষ। মিলটি আগামী ২৫ আগস্ট অর্থাৎ ঈদের পর যথারীতি চালু হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ডব্লিউ রহমান জুট মিল ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান জানান, দুই বছরের চুক্তিতে তাদের মিলটি সাহারা জুট মিল কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দেওয়া হয়। সেই চুক্তি মতো ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর হতে মিলটি তারা চালাচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়নি।

অপরদিকে, স্টার আলকায়েদ জুট মিলের ব্যবস্থাপক আবদুল মোতালেব জানান, তাদের মিলের কোনো সমস্যা নেই। রিপেয়ার কাজ শেষ হলে ২৫ আগস্ট থেকে মিল চলবে।

উল্লেখ্য, চাঁদপুরে মাত্র দুটি জুট মিলই রয়েছে। এ দুটি মিল থেকে পাটের বস্তা, চট ও সুতলি তৈরি হতো। অধিকাংশ পণ্য পাটের বস্তায় ব্যবহার সরকার বাধ্যতামূলক করায় দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পায়। সে সুবাদে চাঁদপুরের বেসরকারি এ দুটি পাটকলও আবার চালু হয়। কয়েকশ নারী-পুরুষ শ্রমিকের পদচারণায় পুনরায় মুখরিত হয় মিল প্রাঙ্গণ। কিন্তু গেল ঈদুল ফিতরের পর থেকে গত দেড়-দুমাস মিল দুটি বন্ধ থাকায় সেখানকার পরিবেশ নিরব নিস্তব্ধ থাকতে দেখা যায়।