ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে জেলা প্রশাসকের তালা

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে জেলা প্রশাসকের তালা

খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

print
ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে জেলা প্রশাসকের তালা

খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণে পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি পৌর শহরের শালবাগানে পাহাড় ধসে বেশকিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়ায় খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙ্গামাটির লংদুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঝুঁর্কিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করেছে পৌর প্রশাসন।

এদিকে অতিবৃষ্টিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় গত সোমবার বিকেলে জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির কলাবাগান, নেসিবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ, আঠার পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে ঢালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।

অন্যদিকে, কয়েক দিন ধরে রাঙ্গামাটি ভারী বর্ষণ চলছে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, তিনদিনে রাঙ্গামাটিতে গড়ে ৩২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার দুপুরে কাপ্তাইয়ে মাটি ধসে নিহত হয়েছেন এক নারী ও এক শিশু।

গত দুদিন ধরে প্রশাসন ঝুঁকিতে বসবাসীকারীদের নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। তবুও নিরাপদ স্থানে আসছেন না তারা।

অবশেষে সোমবার ঘরের দরজায় তালা মেরে ঝুঁকিতে বসবাসরতদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙ্গামাটিতে প্রবল বর্ষণের পর পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ সময় আহত হন আরও দুই শতাধিক মানুষ।

এর পরের বছর ২০১৮ সালের ১২ জুন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় মৃত্যু হয় ১১ জনের। ঝুঁকির কথা জেনেও এসব এলাকায় বসবাস করছে প্রায় ৬২৯টি পরিবার।