রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

চোরাই পথে আসছে সুপারি

রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৬:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৯

print
রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

দেশে সুপারির চাহিদাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে সুপারি আনছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে চোরাচালানের মাধ্যমেই আসছে বেশিরভাগ সুপারি।

এতে একদিকে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে ধার্য করা ট্যারিফের হার পুনর্বিবেচনা এবং চোরাই পথে অবৈধভাবে সুপারি আসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

আমদানিকারকরা জানান, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে গুটিকয়েক চোরাকারবারি সিন্ডিকেট সুপারি আনছে বিভিন্ন মাধ্যমে। চোরাইকারবারিরা মিয়ানমার, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে সুপারি ভারতের মিজোরাম, আসাম, মনিপুর হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে।

জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর সুপারির মোট চাহিদা প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন। এ বিশাল চাহিদার ৪০ ভাগ দেশে উৎপাদন হলেও বাকিটা পূরণ হতো বিশ্ববাজার থেকে আমদানির মাধ্যমে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার সুপারি আমদানি করা হয় দেশে। কিন্তু তিন-চার বছর ধরে চোরাচালানের মাধ্যমেই আসছে বেশিরভাগ সুপারি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ৫ বছর আগেও বছরে প্রায় ৩-৪ হাজার কনটেইনার সুপারি আমদানি করা হতো। সেই হিসেবে বছরে প্রায় ৭০-৭৫ হাজার টন সুপারি আমদানি করা হতো। উচ্চহারে ডিউটি ধার্য করায় বা শুল্ক বাড়ানোয় আমদানি অনেকাংশে কমে গেছে।

আমদানিকারক অজয়কৃষ্ণ দাশ মজুমদার বলেন, সুপারির বাজার অস্থির হয়ে গেছে। আমদানি বন্ধের কারণে আমদানিকারক ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে ধার্য করা ট্যারিফের হার পুনর্বিবেচনা এবং চোরাই পথে অবৈধভাবে সুপারি আসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হলে সুপারির বাজার স্থিতিশীল হতে পারে বলে জানান তিনি।

আমদানিকারক ও চাক্তাই কেন্দ্রিক সুপারির পাইকারি ব্যবসায়ী আযম খান বলেন, চোরাইপথে অবৈধভাবে সুপারি আনায় প্রকৃত ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা পথে বসার অবস্থায় আছেন। আমদানি নির্ভর বিক্রেতাদের খুব খারাপ সময় যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম বলেন, সিলেটের দিকে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে প্রচুর পরিমাণ সুপারি আসছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুপারি চোরাচালান বন্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো ভূমিকা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

সুপারি আমদানিতে উচ্চহারে শুল্ক নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, শুল্ক হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণে আমদানিকারকরা উদ্যোগ নিলে চট্টগ্রাম চেম্বার সরকারের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে পারে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আশা করি ব্যবসায়ী-বান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।