রোহিঙ্গায় বনভূমি দখল

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

রোহিঙ্গায় বনভূমি দখল

ওয়াহিদুর রহমান, কক্সবাজার ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

print
রোহিঙ্গায় বনভূমি দখল

সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা রেখেই আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করেছে ভাসনচরে। ফলে উখিয়া-টেকনাফে নতুন করে ক্যাম্প স্থাপন বা অন্য কোন কারণে বনভূমি ধ্বংসের প্রয়োজন নেই। অথচ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও রোহিঙ্গারা বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে।

বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা সামাজিক বনায়নের গাছ নষ্ট করে অবকাটামো নির্মাণ করছে এনজিও সংস্থা। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সীমানা না থাকায় তাদের ইচ্ছা মতো বনভূমি ধ্বংস করে ঘরন নির্মাণ করছে রোহিঙ্গারা। অনেক রোহিঙ্গা বনের কাট কেটে লাকড়ির ব্যবসা করছে।

সরজমিনে উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, কুতুপালং, মধুরছড়া, টেকনাফ কেরুনতলি চাকমারকুলসহ বিভিন্ন ক্যাম্পের আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু এনজিও সংস্থা নিজেদের অফিসের কথা বলে বনায়নের গাছ কেটে অবকাটামো নির্মাণ করতে দেখা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে দ্রুত সময়ে বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাবে। ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাক্তক ক্ষতি হবে।

এনজিও সংস্থার বেপরোয়া কর্মকান্ডের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এনজিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রান ও পুনবার্সন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে তারা স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, বনবিভাগের জমিতে আমরা অনুমতি দিতে পারি না। এটি বনবিভাগের বিষয়।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, সরকার ও এনজিও সংস্থাগুলো সব ধরনের সহযোগিতা করছে কিন্তু অর্থনৈতিক অভাব মেঠাতে তারা বন থেকে কাট কেটে বিক্রি করছে। এছাড়া অনেকে আবার ছোট ঘরে থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ না করায় নিজেদের মতো করে ঘর নির্মাণ করছে। ফলে প্রতিনিয়ত বনভূমি ধ্বংস করে পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে প্রাকৃতিক বনজ সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা কঠিন। তবে আনুমানিক ১৯৭ কোটি টাকা ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৫ টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
একই সাথে জীববৈচিত্রের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপনে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চৌকিতে হামলার অভিযোগ এনে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন শুরু করে সে দেশের সেনা বাহিনী। সেনাবাহিনীর অত্যচার থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় প্রায় এগারো লাখ রোহিঙ্গা। বাস্তুচ্যুত্ত এসব রোহিঙ্গাকে উখিয়া টেকনাফের ৩২ টি ক্যাম্পে আশ্রয় দেয় সরকার।