বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ | ৬ চৈত্র ১৪২৫

রোহিঙ্গা শিবিরে গ্যাস সিলিন্ডারের ছড়াছড়ি

বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কক্সবাজার প্রতিনিধি ১২:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

print
বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কক্সবাজারে বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কোনো ধরনের অনুমতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিশৃঙ্খলভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিবিরের আশপাশে মুদি দোকানসহ যত্রতত্র এসব গ্যাস কেনাবেচাও চলছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আশ্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বরত দেশি এনজিওগুলোর সমন্বিত মোর্চার কো-চেয়ারম্যান মো. আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ক্যাম্পগুলোয় জ্বালানির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন আড়াই হাজার মেট্রিক টন কাঠ দরকার হয়। এতে আশপাশের বনভূমি চরম হুমকির মুখে পড়ে। এ কারণে প্রশাসন ও দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলো এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। ইউএনএইচসিআর, আইওএম, অক্সফাম, এসিএফ ও কোস্ট ট্রাস্টসহ কয়েকটি এনজিও-আইএনজিও রোহিঙ্গা পরিবারগুলোয় গ্যাস বিতরণ করছে।

এ পর্যন্ত অর্ধলক্ষাধিক পরিবারে গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি বা কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, প্রশাসনের পরামর্শ মতো অনুমতি নেওয়া জরুরি। সিলিন্ডারগুলো কতটুকু নিরাপদ এবং মেয়াদ আছে কি না, এসব দেখার জন্য কোনো ধরনের মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত মনিটরিং করা দরকার। যেসব সংস্থা সিলিন্ডার ও বার্নার বিতরণ করছে, তারা যেন ব্যবহারকারীদের সিলিন্ডার ও চুলার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞাত করে এ ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। তা না হলে অজ্ঞতার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, আইনত প্রশাসনের ‘সেফটি প্ল্যান’-সহ অনুমতিপত্র ছাড়া কোনোভাবেই কেউ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করতে পারবে না। শিবিরগুলোয় আইনবিরোধী কাজ চলছে। সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রির দোকানগুলোও গড়ে উঠেছে খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এতে অসতর্কতাবশত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও সরবরাহ করা হলে অনুমতি নেওয়ার সরকারি বিধান রয়েছে। যেহেতু সংস্থাগুলো বিতরণের উদ্দেশ্যেই সিলিন্ডারগুলো মজুদকরণ করছে, তাই তেমন নজর দেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়াসহ অন্যান্য বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।