ঢাকা, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮ মাঘ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

মাতামুহুরী নদীর তীরে সবজি চাষে সবুজের সমারোহ

এম.মনছুর আলম, চকরিয়া
🕐 ৭:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২২

মাতামুহুরী নদীর তীরে সবজি চাষে সবুজের সমারোহ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুরো বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকেই চোখ যায় দেখা মিলবে সবুজের। এই সবুজেই আচ্ছাদিত হয়ে আছে মাতামুহুরী নদীর দুই তীর।

বিভিন্ন জাতের সবজিতে ভরে উঠছে নদীর বিস্তীর্ণ তীর এলাকা। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলায় কয়েক কোটি টাকার শীতকালীন ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ জনপদের প্রত্যেক এলাকা থেকে পুরোদমে বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন নানা জাতের সবজি।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সার্বিক তদারকির মাধ্যমে উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে শীতকালীন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতকালীন সবজি ও রবি ফসলের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯শত ৮৬ হেক্টর জমিতে।

বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষের আবাদ আজো চলমান রয়েছে। আশা করা যায় চলতি মৌসুমে লক্ষমাত্রার চেয়ে আরো ফলন আবাদ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে কৃষি সূত্রে জানায়। তবে, শীতকালীন সবজি আশানুরূপ ফসল দেখে সফলতার হাসি ফুটেছে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে।

সরেজমিন মাতামুহুরী নদীর তীর ও কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া অংশের দুই তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ও ১২টি ইউনিয়নের ফসলের ক্ষেতের মাঠ এখন সবুজের সমারোহ। চোখ খুললেই দেখা মিলবে সবুজের ছয়াঘেরা মাঠে ভরা। বিশেষ করে সবুজেই আচ্ছাদিত হয়ে আছে মাতামুহুরী নদীর দুই তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। বর্তমানে উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে কৃষকরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, টমেটো, আলু, শিম, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়শ, বরবটি, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়াসহ নানাজাতের শীতকালীন সবজি ক্ষেত থেকে উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। এতে লালশাক, পালংশাক, মুলা, লাউ, বেগুন ও ফুলকপির বীজতলাসহ বিভিন্ন ফলন হয়। মৌসুমের প্রথমেই খরা বৃষ্টির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েন সবজি চাষিরা। তবে দুর্যোগ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ান তারা। মাতামুহুরী নদীর দুই তীর ও ইউনিয়ন জুড়ে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য চাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

এতে প্রায় দেড় দুইমাস আগে থেকেই নানা সহায়তা দিয়ে আগে ভাগে মাঠে নামানো হয় মাতামুহুরী নদীর দুই তীরের পৌরসভার বিভিন্ন ব্লক ছাড়াও বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল, কৈয়ারবিল, বরইতলী, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ অন্তত ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষককে। বর্তমানে শীতকালীন সবজি তুলতে প্রান্তিক
কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চলতি বছরে ফলন ভাল হওয়ায় চাষিরা ন্যায্য মূল্যও ভাল পাচ্ছে। শীতকালীন সবজি ছাড়াও বছরের বারো মাসজুড়ে এসব কৃষক মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানির আশীর্বাদ এবং তীরের উর্বর মাটির ক্ষেতে রেকর্ড পরিমাণ নানা রকমারী ফসল উৎপাদন করে আসছেন। এবারও শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার উৎপাদন হওয়ার ফলে কৃষকের
মুখে হাসি ফুটেছে।এতে কৃষক আর্থিকভাবে ব্যাপক সাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এর সুফল ভোগ করছে।

উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদীর তীর এলাকার চাষি মো.দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রতিবছর মাতামুহুরী নদীর তীরে টমেটো, মরিচ, বাধাঁকপিসহ প্রায় ৮০শতক জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন তিনি। এবারও একই পরিমাণ জমিতে শীতকালীন রকমারী সবজি চাষ করেছে।কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শে প্রায় দেড়মাস আগে মাঠে নেমে পড়েন তিনি।এতে ইতিমধ্যে ক্ষেত থেকে তিনি বেগুন, মরিচ, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজি চাষের মধ্যে অন্য বছরের চাইতে প্রায় এক দেড়লক্ষ টাকা বেশি আয় হবে বলে এমনটাই জানালেন তিনি।

উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের সিংহভাগ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর শীতকালীন সবজির আবাদ করেই তারা সাবলম্বী হন। আগে থেকেই মাঠে নেমে পড়ায় শীতকালীন সবজিতে বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় এতে কৃষকেরা ব্যাপক খুশি। অন্যান্য বছরের চাইতে এবারও সবজি উৎপাদনে রেকর্ড গড়বেন কৈয়ারবিল ইউনিয়নের কৃষকেরা।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, শীতকালীন সবজি চাষের শুরুতে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরকে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে কয়েকমাসের ব্যবধানে উপজেলার কৃষিখাতকে ফের চাঙ্গা করে তোলা হয়।

তিনি বলেন, কৃষকদেরকে নানাভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে জুলাই ও সেপ্টেস্বর মাসে শীতকালীন সবজি চাষে উৎসাহ দেয়া হয়। এরপর কৃষকরা চাষাবাদে নেমে এখন রীতিমতো সবজি চাষে বাম্পার ফলন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে কয়েক কোটি টাকার ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি জানান।

 
Electronic Paper