নাইক্ষ্যংছড়ির ঝরনা সম্ভাবনার দুর্গম পথ 

ঢাকা, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

নাইক্ষ্যংছড়ির ঝরনা সম্ভাবনার দুর্গম পথ 

মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
🕐 ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০২২

নাইক্ষ্যংছড়ির ঝরনা সম্ভাবনার দুর্গম পথ 

এখন অনেকই প্রকৃতি দেখতে ছুটে চলে দেশ থেকে দেশান্তরে। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এমন মানুষ সবসময় প্রকৃতির মাঝেই থাকতে পছন্দ করেন। ঠিক তেমন একটি উপজেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি। উপজেলা সদর বিছামারা গ্রাম থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে তইরাং ঝরনার অবস্থান। এটি নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়িতে অবস্থিত।

এ ঝরনা সুউচ্চ পথ থেকে পানি পড়ে, আর ঝরনার চারদিকে ১-২শ’ ফুট উচ্চ পাথরের বেষ্টনী। ঝরনার পানির ঝুমঝুম আওয়াজ একটি ভৌতিক পরিবেশ, তৈরি করে তাই এই ঝরনাকে পরী ঝরনা বলে অনেকে চিনেন। অপরদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়নের চাকঢালা বাজার থেকে ২-৩ কিলোমিটার দূরত্বে তিনটি প্রাকৃতিক ঝরনা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সোনালি ঝরনা। এটি পর্যটনের কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

এসব ঝরনার সুন্দর দৃশ্য না দেখলে বুঝা যাবে না প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি এত মনোমুগ্ধকর। বছর বছর এসব ঝরনায় পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার পরতে পরতে ছুঁয়ে আছে প্রকৃতির এক অনাবিল শান্তির পরশ। চারদিক পাহাড় আর সবুজ বেষ্টনীর পাথানলে মনে হবে প্রকৃতি তার মনোমুগ্ধতা দিয়ে মুখরিত করে রেখেছে প্রকৃতিকে। ঝুম ঝুম শব্দে বয়ে চলা ঝরনাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে সজীব করে তুলছে ঝরনাধারায়।

পর্যটকদের কাদা-পানি, পাহাড়ি পথে অনেক কষ্টে যেতে হয়। তবে এক্ষেত্রে সরকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পর্যটকরা অবাধে ভ্রমণ করতে পারবে। ফলে এখানে পর্যটন শিল্পের দ্বার উন্মোচন হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত। 

দেশের একমাত্র পর্যটন নগরী কক্সবাজার দেখার জন্য প্রতিদিন হাজারো পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। তারা সমুদ্র পাহাড় দেখে বিমোহিত হন। কক্সবাজারে যেমন রয়েছে ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র,  পাহাড়ের পাশে মেরিন ড্রাইভ। ঠিক তেমনি কক্সবাজার থেকে একটু পূর্বে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে দেখার জন্য রয়েছে অপরূপ প্রকৃতির ভাণ্ডার। কক্সবাজার থেকে ২৮ কিলোমিটার পূর্বে এই উপজেলার অবস্থান হলেও যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকার কারণে বেশি সময়ের প্রয়োজন পড়ে না সেখাসে পৌঁছাতে। রয়েছে প্রাকৃতিক লেক, জলপ্রপাত, ঝুলন্ত সেতু, পাহাড়িদের জীবন ব্যবস্থা, সব মিলিয়ে এক অসাধারণ এক প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা।

এ উপজেলায় পাহাড়ি-বাঙালির সহাবস্থান পর্যটকদের আরো বিমোহিত করবে। তবে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা অনেক জলপ্রপাত বা ঝরনা রয়েছে যা পর্যটক আর্কষণে অনেক অবদান রাখবে। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে সেখানে পর্যটক যেতে পারছেন না।

মনকে একটু শান্তি দিতে ঘুরে আসতে পারেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের সোনালি ঝরনা ও তইরাং বা পরী ঝরনা থেকে।  কক্সবাজার থেকে আসা পর্যটক সুমন জানান, ঝিরিপথ দিয়ে হাঁটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে আমাদের। তারপরও কাদা পথে হাঁটার সময় অনেকে পা পিচ্ছিলে পড়ে যান। এক পর্যটকের পা কেটে গেছে, আবার ছোট বা বৃদ্ধ পর্যটকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় হাঁটার পর ঝরনা দেখতে পেয়েছি। চমৎকার দৃশ্য দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে।
এসব ঝরনার যৌবন হলো বর্ষাকালে। এসময় প্রচণ্ড গতিতে জলধারা গড়িয়ে পড়ে। বর্ষাকালেই ঝরনার প্রাণ ফিরে পায়। ভারী বর্ষণ হলে ঝিরিপথে পানির স্রোত বেশি থাকে। ঝরনার পাথরগুলো পিচ্ছিল হয়ে এ পথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, পার্বত্য মন্ত্রী বাবু বীর বাহাদুর সম্প্রতি বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন। তিনি মনে করেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পর্যটন সম্ভবনাময় একটি উপজেলা। তাই তিনি গুরুত্বসহকারে এ উপজেলাকে সাজাতে কাজ করছেন। আশা করছি এ উপজেলা পর্যটনবান্ধব হিসাবে তৈরি করতে পারব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস প্রতিবেদককে জানান, নাইক্ষ্যংছড়িতে নতুনভাবে এসব ঝরনা সৃষ্টি হয়েছে। চালিত অর্থবছরে পর্যটন নিয়ে যেকোনো ধরনের বাজেট হলে অবশ্যই এসব ঝরনায় যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।

তিনি আরও জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি লেকের বিভিন্ন দিক উন্নয়নের ফলে দর্শনার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে এলাকার অর্থনীতিক অবস্থাও পরিবর্তন হচ্ছে।

 
Electronic Paper