পদ্মা সেতু পাল্টাবে কুয়াকাটার ভাগ্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

পদ্মা সেতু পাল্টাবে কুয়াকাটার ভাগ্য

সোলায়মান পিন্টু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
🕐 ৭:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২২

পদ্মা সেতু পাল্টাবে কুয়াকাটার ভাগ্য

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলাধীন সাগরকন্যাখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। যেখানে আসলে সাগরের নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জন আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। গত দুই দশকের বেশী সময় ধরে এখানে আগমন ঘটেছে দেশী বিদেশি অগনিত পর্যটকের। কিন্তু এখানে আসার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল লাজুক। অনেক পর্যটকের কুয়াকাটা আসার ইচ্ছা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন বিনোদনের জন্য।

এখানে আসতে প্রধান প্রতিবন্ধকতাই ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভাঙ্গা সড়ক আর একাধিক সেতু পার হয়ে কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের জন্য ছিল নানা রকম বিড়ম্বনা। শুধু পদ্মা নদী পাড় হতেই সময় লাগত ৮/১০ ঘন্টা। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে সেই নদী পাড় হতে সময় লাগবে মাত্র ১০ মিনিট। ফলে কুয়াকাটায় আসতে আগ্রহী পর্যটকরা খুব সহজেই আসতে পারবে এই সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অপরদিকে পদ্মা সেতু চালু হলে ঘুরে দাড়াতে শুরু করবে স্থবির হয়ে থাকা নামি-দামি বিনিয়োগকারীদের স্থাপত্য। যা পর্যটকদের সেবার মান বাড়াবে কয়েকগুণ।

সেতু চালু হলে অবসান ঘটবে কুয়াকাটায় পৌছানোর সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা এমনটাই প্রত্যাশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তাই সেতু উদ্বোধনের খুশিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় আনন্দ মিছিল করেছে কুয়াকাটা পৌরসভা, পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। কুয়াকাটা পৌরসভার আয়োজনে বুধবার সকাল ১০ টায় পৌরসভা কার্যালয় থেকে এ মিছিল বের হয়।

ঢাকা থেকে আগত এক পর্যটক দম্পতি বলেন, কুয়াকাটার সৌন্দর্য উপভোগ করতে সবসময়ই মন প্রস্তুত থাকে। কিন্তু মাওয়া ফেরির কথা মনে পড়লে আর আসতে মন চায় না। সেতু চালু হলে সেই ঝামেলা থাকবেনা। তখন অল্প সময়েই কুয়াকাটা আসা যাবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম গাইড এসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ভালো সাড়া পাচ্ছি। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে কয়েকগুণ বেশি পর্যটক কুয়াকাটায় আসবে। সেজন্য আমরা ট্যুর গাইডদের পরিধিও বাড়াতে শুরু করেছি। গাইডদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করছি। সৈকতের সৌন্দর্যকে আরও বাড়ানোর চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছি।

জল তরুনী ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান জানান, পদ্মা সেতু এই সৈকতের জন্য আর্শিবাদ। সেতু চালু হলে ইকো-ট্যুরিজমের প্রসারও বাড়বে। তাই সারা বছরই পর্যটকে মুখরিত থাকবে কুয়াকাটার সৈকত।

কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট’র জি এম মো.নাসিমুল আজিম বলেন, বেশ কয়েক বছর যাবৎ নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটক পেতাম। লেবুখালীর পায়রা সেতু উদ্ভোধনের পর কুয়াকাটায় পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীরা পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের অপেক্ষায় ছিল। আশা করছি এই সেতু খুলে দিলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে কয়েকগুন। সেই লক্ষে হোটেলের রুম, জনবল, সুযোগ-সুবিধা বাড়াচ্ছি। যাতে আগত পর্যটকদের সেবার মান আগের থেকে বেশী দেয়া যায়।

ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, সেতু চালু হলে কুয়াকাটার একটি আমুল পরিবর্তন হবে। ঢাকা-কুয়াকাটার দূরত্বটা কমে যাওয়ার কারনে ১০-১২ ঘন্টার পথ ৫-৬ ঘন্টায় পৌঁছানো যাবে। বর্তমানে কুয়াকাটায় পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ধারণ ক্ষমতা ১৫ হাজার। সেতু খুলে দিলে এর কয়েকগুণ পর্যটক হওয়ার সম্ভাবনায় বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলো ফাইভস্টার-থ্রিস্টার মানের হোটেল তৈরিতে কাজ শুরু করছে।

কলাপাড়া পৌর শহর ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম জানান, বাঙালির স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যার অবদানের শেষ নেই। ইতিমধ্যেই ব্যাবসায়ীরা তাদের বানিজ্যিক প্রসার ঘটাতে নুতন নতুন পরিকল্পনা শুরু করেছেন।

পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের গর্বের সেতু। পদ্মাসেতু কুয়াকাটার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এনে দিবে। পর্যটন ভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়বে। পৌর মেয়র আরও বলেন, আর মাত্র দুইদিন বাকি পদ্মা সেতু উদ্বোধনের।
আর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কুয়াকাটা তথা দক্ষিনাঞ্চলসহ ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পুরণ হতে চলেছে। কুয়াকাটার সাথে সারা দেশের ফেরি পারাপার যুগের অবসান ঘটবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা আর্ন্তজাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে উঠবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো.কামাল জানান, রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতিতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের আশার আলো দেখছে। পদ্মা সেতুর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক চাঁকা সচল হবে। এই সেতু উদ্বোধনের খবরে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে অত্র অঞ্চলের মানুষ।

 
Electronic Paper