সাকরাইনের সাজে সাজছে পুরান ঢাকা

ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সাকরাইনের সাজে সাজছে পুরান ঢাকা

মুজাহিদ বিল্লাহ
🕐 ৫:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২২

সাকরাইনের সাজে সাজছে পুরান ঢাকা

পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে সাকরাইন উৎসবের প্রস্তুতি। অনেকের কাছে সাকরাইন ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব নামেও পরিচিত।সাকরাইনকে ঘিরে পুরান ঢাকার অলিতে গলিতে বেড়েছে ঘুড়ি বেচাকেনার ধুম। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধরা কিনছে নাটাই, ঘুড়ি। চলছে সুতাই মাঞ্জা দেওয়ার কাজ।

আগামী ১৪ জানুয়ারি পালন করা হবে সাকরাইন উৎসব৷ এ উপলক্ষে সাজতে শুরু করেছে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা।

সরজমিনে দেখা যায়, সাকরাইন উপলক্ষে সূত্রাপুর, নবাবপুর, শ্যামবাজার, ধূপখোলা, শাঁখারি বাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার,ফরাশগঞ্জ, সদরঘাট, গেন্ডারিয়া, নারিন্দা,লালবাগ, চকবাজার, মুরগীটোলা, ধোলাইখাল সহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে সাকরাইনের আমেজ। বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে ঘুড়ি বিক্রি এবং বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ছাদ সাজানো।

ঘুড়ির দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে চোখদার, রকদার, গরুদার, ভোমাদার, কাউঠাদার, মাছলেঞ্জা, ফিতালেঞ্জা, একরঙা, চানতারা, সাপঘুড়ি, প্রজাপতি ঘুড়ি, পেঁচা ঘুড়ি, বাক্স ঘুড়ি সহ নানান ঘুড়ি। আতশবাজির মধ্যে আছে পাঁচ শট, বারো শট, একুশ শট, বত্রিশ শট, আশি শট, একশ বিশ শট, দেড়শ শট, কদম ফুল, তাঁরা শট, ঝর্ণা, ব্যাটারি বোম, চকলেট বোম, শলতা বোম, রকেট বোম, পাতা বোম / ২৮ বোম, ফ্লেম টর্চ। ফানুশেরও রয়েছে হরেক পদ। যেমন – গোল ফানুস, হার্ট ফানুস, চারকোণা ফানুস।

জানা যায়, পুরান ঢাকায় পুরনো যেসব উৎসব যুগের পর যুগ পালিত হয়ে আসছে, তার মধ্যে এই সাকরাইন ই অন্যতম। এই সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে দক্ষিন এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে। দেশ থেকে দেশান্তরে অতিবাহিত হয়ে আসতে আসতে এটি পুরান ঢাকার একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।

প্রাচীন ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৭৪০ সালের পৌষ মাসের শেষ এবং মাঘ মাস শুরুর সন্ধিক্ষণে মোঘল আমলে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খান এর আমলে ঘুড়ি উৎসবের প্রচলন চালু হয়। কালের পরিক্রমায় এই দিনটি পুরান ঢাকাইয়াদের একটি অন্যতম উৎসব এবং আমেজে পরিণত হয়েছে।

সূত্রাপুর অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা আরফিন সানজু বলেন, পুরান ঢাকার সাকরাইন একটি ঐতিহ্য যা ১৭০০ সাল পর থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে। ১৪ই জানুয়ারি প্রতি বছর উৎসবটি পালন করা হয়ে থাকে। আমরা সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছি, এটা আমাদের কাছে এক অন্যতম আনন্দের দিন। আমরা ঢাকাইয়ারা সব সময় এই ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে ছড়িতে দিতে চাই।

 
Electronic Paper