তেল চুরিই আয়ের উৎস!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২ | ৫ মাঘ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

তেল চুরিই আয়ের উৎস!

নিজস্ব প্রতিবেদক
🕐 ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২১

তেল চুরিই আয়ের উৎস!

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় দুজন নিহতের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। দুর্ঘটনায় জড়িত চালকদের কেউই পেশাদার বা করপোরেশন নির্ধারিত চালক নন।

করপোরেশনের দুই-একজনের যোগসাজশে ময়লাবাহী গাড়ি চালাতেন তারা। তাদের আয় বলতে ছিল তেলচুরির অর্থ। জড়িত চালকদের গ্রেফতারের পর র‌্যাব জানায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ওয়ার্কশপের সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গেই তাদের ঘনিষ্ঠতা হয়। এ সুযোগে তারা ময়লাবাহী গাড়ি চালানোর সুযোগ পান। তাদের বেতন ছিল না। প্রতিদিন গাড়ির জন্য বরাদ্দ তেল থেকে বেঁচে যাওয়া ১৭-২০ লিটার বিক্রি করাই ছিল তাদের উপার্জনের উৎস।

গতকাল শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, গত ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে চালক রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ, যিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মী। গত শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ওই গাড়ির মূলচালক হারুনকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৫ নভেম্বর রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় সংবাদকর্মী আহসান কবীর খান (৪৬) নিহত হন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে চালক হানিফ ওরফে ফটিককে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার দিন হানিফ পান্থপথ থেকে গাবতলীতে দুইবার ময়লা নিয়ে ডাম্পিং করেন। তৃতীয়বার যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে আরোহী আহসান কবীর নিহত হন। ঘটনার পর ভয় পেয়ে হানিফ ও তার সহকারী কামরুল গাবতলী পালিয়ে যান। এরপর সেখান থেকে কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুরে নানার বাড়িতে আত্মগোপনে যান হানিফ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ হানিফকে ধরতে দেশের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। এরপর চাঁদপুর থেকে হানিফকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতার হানিফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানায়, তিনি গত ছয়-সাত বছর ধরে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্কশপে সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ডিএনসিসির বেতনভুক্ত বা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীও নন। প্রতিদিন মেকারের সহকারী হিসেবে কাজ করলে কেউ যা বকশিস দিত, সেটাই তার একমাত্র আয় ছিল। এর মধ্যে গত তিন বছর ধরেই তিনি ডিএনসিসির বিভিন্ন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ২০১৯ সালে নিজে হালকা যানবাহন পরিচালনার লাইসেন্স পেলেও ময়লাবাহী ট্রাকের মতো ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না।

এরপরও গত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি এই ময়লাবাহী ভারী ট্রাক চালাতেন। গত কয়েক বছরে সিটি করপোরেশনের কয়েকজনের সঙ্গে তার সখ্য হয়। সেই সখ্য থেকেই তিনি গাড়ি চালানোর জন্য পেয়ে যান। এজন্য তিনি কোনো মাসিক বা দৈনিক হাজিরার বেতন পেতেন না। তবে গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত তেল থেকে প্রতিদিন ১৭-২০ লিটার তেল বাঁচাতে সক্ষম হতেন তিনি। সেই তেল বিক্রির অর্থই ছিল তার আয়ের উৎস।

র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হানিফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের কাছে দুই-একজনের কথা বলেছেন। যাদের সঙ্গে সখ্যর জেরে তিনি গাড়িটি চালানোর জন্য পান। এর মধ্যে ডিএনসিসির স্থায়ী কর্মী এবং মাস্টাররোলের কর্মীও রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করতে ডিএনসিসির সঙ্গে আলোচনা করব। তারা নিশ্চয়ই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। এ ঘটনায় রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি মামলা হয়েছে।

চালক হারুন ২ দিনের রিমান্ডে
নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী গাড়ির চালক (২য়) হারুনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গতকাল শনিবার পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আনিছুর রহমান সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে তাকে আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলামের আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

 
Electronic Paper