স্কুল হোস্টেলে ছাত্রের মৃত্যু

ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

স্কুল হোস্টেলে ছাত্রের মৃত্যু

পুলিশ বলছে আত্মহত্যা, পরিবারের দাবি হত্যা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
🕐 ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

স্কুল হোস্টেলে ছাত্রের মৃত্যু

উত্তরায় শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হোস্টেলে আবির হোসেন খান (১৩) নামের এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের ধারণা, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর বাড়ির অষ্টম তলা থেকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

জানা গেছে, আবির টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মো. ফজলুর রহমানের ছেলে। সে কলেজের হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করত। তার পরিবার নবাবগঞ্জে বাস করে। গতকাল রোববার থেকে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত হওয়ায় তার বাবা ফজলুর রহমান শনিবার দুপুরে তাকে কলেজের হোস্টেলে দিয়ে যান।

আবিরের খালা রাবেয়া সুলতানা খান বলেন, শনিবার দুপুরে আবিরের বাবা ছেলেকে কলেজের হোস্টেলে রেখে যান। সন্ধ্যায় কলেজ থেকে তাকে ফোন দিয়ে জানানো হয় আবির অসুস্থ। খবর পেয়ে আমি সেখানে ছুটে যাই। আমি ওই কলেজের পাশেই থাকি।

তিনি বলেন, কলেজের হোস্টেলে গিয়ে দেখি দুজন পরিচালক নিচে কথা বলছেন। তাদের কাছে আবিরের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন আবির গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পরে তাকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাবেয়া সুলতানা বলেন, হাসপাতালে যাওয়ার পর দেখি জরুরি বিভাগের সামনে আবিরের মরদেহ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছেন হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই আবিরের মৃত্যু হয়েছে।

আবিরের খালার দাবি, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। কারণ, আবিরের মরদেহ হোস্টেলের বিছানার ওপর ছিল। উদ্ধারকালে আবিরের দুই পা হাঁটুগাড়া অবস্থায় ছিল। এভাবে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আবিরকে যখন হোস্টেলে দিয়ে যাওয়া হয়, তখন তিনি হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কতজন ছাত্র এসেছে। উত্তরে তারা জানিয়েছিলেন, ৭-৮ জন ছাত্র এসেছে। তখন আবিরকে তার বাবা ১১৫ টাকা দিয়ে এসেছিলেন। আমি ধারণা করছি, আবিরের কাছে বেশি টাকা আছে বলে মনে করে তা নেওয়ার জন্য ছাত্ররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই লাল মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে আবির হোস্টেলের জানালার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। ওই ছাত্রের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তার শরীর কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আবির আত্মহত্যা করেছে। বাকিটা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে বলা যাবে।

 
Electronic Paper