দরজা খুলে দেখলেন বিছানায় মেয়ের লাশ

ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭

দরজা খুলে দেখলেন বিছানায় মেয়ের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

print
দরজা খুলে দেখলেন বিছানায় মেয়ের লাশ

মোবাইলে মেয়েকে না পেয়ে মেয়ে রাশিদা বেগম রাশির বাসায় ছুঁটে যান মা। তিনি গিয়ে ফেলে রাখা চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখেন মেয়ে মৃত অবস্থায় বিছানায় শোয়া। ২৪ জানুয়ারি, রোববার রাত সাড়ে ৯টায় ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর ডেমরা এলাকায়। মেয়েটির নাম রাশিদা বেগম (২৪)। পরে খবর পেয়ে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ডেমরার সারুলিয়া পশ্চিম টেংরার একটি বাড়ির নিচতলা থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মেয়ের স্বামী মো. জুনায়েদ (৩৬) পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ওই নারীর স্বামী জুনায়েদ পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। লাশ উদ্ধার করে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেশীদের বরাতে ওসি আরও, ডেমরায় মৃত হাজি সিরাজ মিয়ার বাসায় ৩ বছরের সন্তানসহ সাবলেট থাকতেন ওই দম্পতি। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ডেমরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নূরে আলম সিদ্দীকি জানান, পলাতক জুনায়েদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। সে সোনারগাঁও থানার মছলন্দপুর গ্রামের আবদুল হাই মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে ওই নববধূ নোয়াখালীর মাইজদি থানার পাখিয়া কিশোরগঞ্জ গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের মেয়ে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে ডেমরা থানা পুলিশ।

রাশিদা বেগমের ভাই রাসেল জানান, গত ১ মাস আগে গাড়িচালক জুনায়েদের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয় তার বোনের। বিয়ের পর থেকে রাশিদা ও জুনায়েদ পশ্চিম টেংরা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রাশি ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করতেন।

এ ছাড়া পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করা হচ্ছে, রাশি আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার স্বামী পালিয়েছেন। কারণ ওই গৃহবধূর রুমের দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল এবং রুমের পাশেই দরজার তালার চাবি রাখা ছিল। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন রাশির ভাই রাসেল। রাশির পলাতক স্বামীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।