শৃঙ্খলা ফিরছে গণপরিবহনে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭

শৃঙ্খলা ফিরছে গণপরিবহনে

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

print
শৃঙ্খলা ফিরছে গণপরিবহনে

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুটের পরিধি বাড়িয়ে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত কোম্পানির মাধ্যমে বাস চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে ঘাটারচর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বাস চালুর ঘোষণা ছিল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট রেশনালাইজেশনের ১৫তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণের মেয়র বলেন, ‘মালিকদের মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপ করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি চিঠি দেব যাতে করে প্রাথমিকভাবে একশ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা যায়। যাতে করে যে বাসগুলো এই রুটে চলবে এর আধুনিকায়ন করার জন্য যে খরচ হবে, যে বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে, সে বিনিয়োগ যেন তারা সেখান থেকে করতে পারে। স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদে মালিকরা যাতে এই ঋণ পান, সে ব্যাপারটিও চিঠিতে থাকবে। সামগ্রিকভাবে এ বিষয়টা শেষ করতে পারলেই ঢাকাবাসীকে সুফল দিতে পারব।’ মেয়র তাপস বলেন, ঘাটারচর থেকে শুধু মতিঝিল পর্যন্ত রুট নির্ধারণ করা হলে এটি ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। এজন্য রুট বাড়িয়ে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত করা হয়েছে। এই রুটে কোম্পানির মাধ্যমে 

বাস কীভাবে চলবে, কতগুলো বাস চলবে, কতগুলো প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত থাকবে, আয় কীভাবে বণ্টন হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে- সামগ্রিক বিষয় নিয়ে নীতিমালা হবে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অংশীজনদের নিয়ে বসে নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করবে। আগামী সভার আগেই খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করলে কোম্পানি গঠনের দিকে এগিয়ে যাবেন। এ রুটে ১ এপ্রিল থেকে বাস চলার কথা।

মেয়র তাপস বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাস মালিকরা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবেন। আয় ও ব্যয়ের হিসাব যাতে ঠিকমতো হয়, সে জন্য একটি নীতিমালা তৈরি হবে। নীতিমালার আলোকে প্রাইলট এই প্রকল্পে জয়েন্টভেঞ্চার অ্যাগ্রিমেন্ট হবে। এরপর এটাকে একটা পূর্ণাঙ্গ কোম্পানিরূপে চালু করা হবে। এই রুটে চলাচলকারী বাসে যাত্রীদের জন্য ভাড়া নির্ধারণের দায়িত্ব বিআরটিসিকে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, রাত ১২টার পর সড়কে যাতে বিআরটিসির বাস না থাকে, গত সভায় এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে অনেক দূর অগ্রগতি হয়েছে। জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় কিছু বাস এখনো সড়কেই থাকছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিআরটিসির সব বাস নিজস্ব ডিপো বা টার্মিনাল বা তাদের জায়গায় রাখার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার আশপাশে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল করার জন্য ১০টি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছিল উল্লেখ করে মেয়র তাপস বলেন, এর মধ্যে কয়েকটি জায়গা তারা পরিদর্শন করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শনে তাঁরা বাটুলিয়াতে একটি জায়গা নির্ধারণ করেছেন। সেখানে আন্তঃজেলা একটি টার্মিনাল হবে। মূলত উত্তরাঞ্চলের যে বাসগুলো আছে, সেখানে এসব বাস থাকবে। উত্তরাঞ্চলের বাসের জন্য সাভারের হেয়ায়েতপুরে দুটি জায়গা দেখে একটি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বাসের জন্য কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে একটি এবং কাঁচপুর এলাকায় আরেকটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই চার জায়গায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থাপন করলে ঢাকা শহরের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে। সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনালগুলোকে সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বাকি চারটি টার্মিনাল দূরপাল্লার বাসের জন্য নির্ধারিত থাকবে। প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী বরাবর দেওয়া হবে।