ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা ড্রেস বানানোয় জিম্মি

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা ড্রেস বানানোয় জিম্মি

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২০

print
ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা ড্রেস বানানোয় জিম্মি

দেশের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসার নূন স্কুল এন্ড কলেজ। ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির চারটি শাখা রয়েছে। চারটিতে মোট ২৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ড্রেস কোড নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের যোগসাজশে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান ১৪ বছর ধরে প্রত্যেক ছাত্রীর পোশাক সরবরাহ করে আসছে। এমন অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ডেকেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

জানা যায়, মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. ইব্রাহিম মোল্লা ১৪ বছর ধরে পোশাক তৈরির টেন্ডার পাচ্ছেন। বিষয়টি নজরে আসায় স্বপ্রণোদিতভাবে জরুরি তলব করেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। ছাত্রীদের ড্রেস সরবরাহ এবং বিতরণের ক্ষেত্রে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যোগসাজশে চুক্তিবদ্ধের অভিযোগ তুলে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টিকরণের দায়ে তাদের তলব করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের পক্ষ্য থেকে গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে জরুরি চিঠি দেওয়া হয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের মো. ইব্রাহিম মোল্লাকে। তিনি ২০০৪ সাল থেকে পোশাক সরবরাহ করে আসছেন।

আজ সোমবার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনে শুনানির জন্য সংশ্লিষ্টদের ডাকা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সনসহ ফুল কমিশন শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ধরা পড়লে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিযোগিতা কমিশন আইন অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্ন ওভারের ১০ শতাংশ বা লাভের তিনগুণ অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। শুনানি শেষে বুঝা যাবে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। আবার প্রয়োজনীয় উপদেশও দেয়া হতে পারে তাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি এক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ বছর যাবত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ড্রেস সরবরাহ করা হচ্ছে।

এখানে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সোমবার শুনানির জন্য সংশ্লিষ্টদের ডাকা হয়েছে। আমাদের ফুল কমিশন শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন। আমরা শুনানিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। আইনের ব্যত্যয় হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।