ভালোবাসায় ভাগ বসানোয় খুন ছোট্ট মিম!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

ভালোবাসায় ভাগ বসানোয় খুন ছোট্ট মিম!

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

print
ভালোবাসায় ভাগ বসানোয় খুন ছোট্ট মিম!

রাজধানীর বনানী থানা এলাকার কড়াইল বস্তিতে চাঞ্চল্যকর শিশু মিম (৪) হত্যায় জড়িত একমাত্র আসামি ও নিহতের বড় ভাইকে (১৪) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। বাবা-মায়ের ভালোবাসায় ভাগ বসানোই ছিল শিশু মিমের অপরাধ। পথের কাঁটা ভেবে তাকে হত্যা করে বড় ভাই। র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির মো. লিটন মিয়ার শিশুকন্যা মিমকে শ^াসরোধে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মিমের বাবা লিটন মিয়া জানান, তিন বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি বনানী এলাকায় পেয়ারা ও আমড়া বিক্রি করেন আর তার স্ত্রী রুপসানা অন্যের বাসায় কাজ করেন।

প্রতিদিনের মতো বুধবারও তার স্ত্রী রুপসানা সকাল বেলা কাজে চলে যান এবং কিছুক্ষণ পর তিনিও বাসার বাইরে চলে যান। কিছু সময় পর তিনি বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। অবশেষে পাশের আল-মদিনা মসজিদের মাইকে বিষয়টি ঘোষণা করে জানানো হয়। পরে মিমকে বাসা থেকে কিছু দূরে একটি গোসলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, মিম হত্যাকাণ্ডের পর র‌্যাব-১ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কড়াইল বস্তি থেকে ভিকটিমের বড় ভাইকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, সে স্থানীয় আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়রত। সে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত নরসিংদীর রায়পুরায় তার নিজ গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। এরপর বাবা-মায়ের কাছে ঢাকায় আসে।

আসামির ভাষ্যমতে, ছোট বোন মিম জন্মের পর থেকে তার প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা কমতে থাকে। যত দিন যায় বাবা-মা তার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন এবং সব ভালোবাসা মিমের দিকে চলে যায়। তার ওপর কারণে-অকারণে চলে বাবার নির্দয় প্রহার। যার দুরুন ছোট বোনের প্রতি তার ক্ষোভ জন্মাতে থাকে এবং সব কিছুর জন্য তাকে দায়ী করে সে।

প্রতিদিন বাসায় ফিরে তার বাবা সবার আগে মেয়েকে কাছে ডেকে নেন এবং আদর করে তার জন্য বাইরে থেকে নিয়ে আসা সব কিছু খেতে দেন। সে আরও জানায়, বাবা-মা দুজনই তার ছোট বোনের সব আবদার পূরণ করলেও তার বেলায় বিপরীত ঘটনা ঘটে। তাই সে ছোট বোন মিমকে বাবা-মায়ের চোখের আড়াল করার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আটতে থাকে।