রাজধানীতে যাত্রী সংকট পরিবহনে

ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬

করোনা আতঙ্ক

রাজধানীতে যাত্রী সংকট পরিবহনে

তোফাজ্জল হোসেন ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

print
রাজধানীতে যাত্রী সংকট পরিবহনে

রাজধানীর সড়কগুলোতে পরিবহনের যানজটের ঐতিহাসিক দৃশ্য পাল্টে গেছে। নগরীর প্রতিটি সড়ক-রাস্তায় চোখে পড়ে ছোট থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিবহন সিগন্যাল পার হওয়া জন্য অপেক্ষারত। যাত্রীদের পরিবহনে সিটে বসা নিয়ে হুড়াহুড়ি করতে হচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে ‘করোনা আতঙ্ক’ নগরীর মানুষ এখন ভয়ে রাস্তায় নামছেন না। কাজের সন্ধানে গ্রামগঞ্জের খেটে খাওয়া দিনমজুররা ইতোমধ্যেই আতঙ্কের কারণে রাজধানী ত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার নগরীর সড়ক-রাস্তায় পরিবহনগুলোতে আশানুরূপ যাত্রী দেখা যায়নি। রাজধানীর দৃশ্যপট একেবারেই আলাদা। নেই তেমন যানযট, নেই যাত্রীদের পরিবহনে সিটে বসা নিয়ে তোড়জোড় নেই। রাস্তাগুলোতে হঠাৎই নেমে এলো সুনসান। কিন্তু কেন? এর সব কিছুর পিছনে কারণ একটাই, করোনা ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯)। যার প্রথম শুরুটা ছিল চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল চীনের সীমা অতিক্রম করে এরই মধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৭৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই করোনা ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী এখন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার মানুষ। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও এরই মধ্যে ৮ হাজার ৯৬৭ জনে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশেও প্রভাব পড়েছে এই ভাইরাসের। আজ নতুন তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হওয়ার কথা জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম। এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১৭ জন করোনা রোগী শনাক্তের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। করোনা ভাইরাস দিন দিন ছড়িয়ে পড়ায় আতস্ক নিয়ে বসবাস করছে জনগণ। এদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এমন অবস্থায় করোনা ভাইরাস যেন বাংলাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সতর্কতার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সম্ভব হলে গণজমায়েত এবং গণপরিবহন পরিহার করা। এরই মধ্যেই জনসমাগম এড়িয়ে চলছে মানুষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, ধানমন্ডি-৩২, ধানমন্ডি-১৫, মোহাম্মদপুর, মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আগের তুলনায় মানুষ। জনসমাগম কম কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে একাধিক ব্যক্তি এবং ফুটপাতে ব্যবসা করা লোকজন জানান, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বাসা থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হচ্ছেন, তারাও কাজ শেষ করে দ্রুতই বাড়ি ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সে কারণেই রাস্তাঘাটে লোকজন কম দেখা যাচ্ছে।

মোহাম্মদপুর কাটাশুর নামাবাজার এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, এক জায়গায় বসে থাকলে তো সংসার চলবে না। আর বসে বসে খাওয়ার মতো টাকা-পয়সা আমাদের নেই? তবে, করোনা ভাইরাসে কাজকর্মের অবস্থা আগের থেকে অনেকটাই খারাপ হয়ে গেছে, এ অবস্থা বেশি দিন চললে আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের অনেক সমস্যা হয়ে যাবে।

অপরদিকে আজিমপুর নিউ মার্কেট-উত্তরা আজিমপুর রোডের বিকাশ, ভিআইপি, শতাব্দী (এসি) এগুলো পরিবহনে লক্ষ্য করা যায়, আগের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা অনেকটাই কম।

পরে আছে পরিবহনগুলোর আসন। কিছুদিন আগে এসব পরিবহনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। সিট না পেয়ে যাত্রীদের দাঁড়িয়েও থাকতে দেখা গেছে। আর এখন অধিকাংশ আসন সংখ্যাই যাত্রীবিহীন। বাসের মধ্যে যাত্রী চোখে পড়লেও দেখা যায় যাত্রীদের বেশির ভাগই মাস্ক ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর অধিকাংশ রাজনৈতিক দল তাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে।