সিটির নতুন ওয়ার্ডগুলো সাজাতে নানা উদ্যোগ

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

সিটির নতুন ওয়ার্ডগুলো সাজাতে নানা উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ২:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

print
সিটির নতুন ওয়ার্ডগুলো সাজাতে নানা উদ্যোগ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি-ডিএসসিসি) নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে এখনো তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে রাস্তা, ফুটপাত, এলইডি বাতিসহ অনেক অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে এখনো বঞ্চিত এসব ওয়ার্ডের মানুষ। আশার কথা হচ্ছে, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে ব্যাপক উন্নয়নকাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ নতুন ওয়ার্ডগুলোকে ভিন্নরূপে সাজিয়ে তুলবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

 

দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডকে দৈনন্দিনসহ সব যাবতীয় সেবার আওতায় আনতে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় পার্ক ও বাজার, রাস্তা ও ফুটপাত নির্মাণ, এলইডি বাতি স্থাপনসহ অনেক অবকাঠামো উন্নয়ন থাকছে। থাকছে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাও। পাশাপাশি সব রাস্তায় বছরভর খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের মত ফুটপাতের নিচ দিয়েই সব প্রকার ইউটিলিটি সার্ভিসের লাইন বসানো হবে। ফুটপাতের নিচে কমন সার্ভিস ডাক্ট তৈরি করে এর ভেতরে সব ইউটিলিটি সার্ভিসের ক্যাবল ও পাইপ প্রতিস্থাপন করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এনে এলইডি বাতি স্থাপন, ফুটপাত, সড়ক, ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে মূল নগরীর সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে করপোরেশনে নতুন যুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডকে। এসব এলাকায় হবে আধুনিক কসাইখানা এবং কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেট।

সূত্র বলছে, প্রায় ৭৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া- এ চারটি সাবেক ইউনিয়নের (বর্তমানে ওয়ার্ড হিসেবে যুক্ত এলাকা) ১৬৭ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার রাস্তা, ৮ দশমিক ৮১ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৭১ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার নর্দমা, ১৪৩ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রাস্তায় এলইডি বাতি, ৭০৬৩টি বৃক্ষরোপণসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া মান্ডা, ডেমরা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও- এ চারটি সাবেক ইউনিয়নে ৫১৫ দশমিক ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা, ৬১ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার নর্দমা, ৭ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার ফুটপাত, ১২টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-প্রকল্পসমূহের মধ্যে ৪ হাজার ২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড সাজাতে। এক্ষেত্রে ১৬১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার রাস্তা, ২২২ দশমিক ৮২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া ১১ হাজার ২২৪টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে উত্তরের নতুন ওয়ার্ডগুলোতে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদ্যবিদায়ী মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে কোথায় বাজার হবে, কোথায় পার্ক হবে, কোথায় স্কুল হবে, ঠিক পরিকল্পনামাফিক কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন করে এসব সেসব ওয়ার্ড সাজাতে পারার বিষয়টি কিন্তু আমাদের জন্য একটি ভালো বিষয়। আশা করা যায় ওই এলাকাগুলো আধুনিক শহরে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, উন্নত বিশ্বের মত নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে ফুটপাতের নিচ দিয়ে সব ধরনের ইউটিলিটি সার্ভিসের লাইন বসানোর নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদদের নকশা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন এ নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের সীমানায় অবস্থিত সব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশ বাস্তবায়নে আমরা নতুন সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়ন মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ফুটপাতের উভয় পাশে কমন সার্ভিস ডাক্ট তৈরির নকশা করেই রাস্তা তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজধানীতে সেবাদাতা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে আমাদের।

তবে উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও এসব কাজে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কথা বলেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেছেন, ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ওয়ার্ডের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। সিটি করপোরেশন এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যাবলী এবং দায়িত্ব মূলত স্থানীয় সরকার (সিটি কলপোরেশন) আইন ২০০৯ দ্বারা নির্ধারিত। স্থানীয় সরকারের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ওয়ার্ড কাউন্সিলকেন্দ্রিক হওয়া উচিত।

এতে এলাকার মানুষের ভেতরে নিজের এলাকায় উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার আগ্রহ জন্মাবে। স্থানীয়রা জানবে যে, তার যে কোনো কাজের জন্য এলাকার কাউন্সিলরের অফিসেই যেতে হবে। এলাকার মানুষের সঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং অফিসের সরাসরি যোগাযোগ হবে। আমরা প্রায়ই এলাকায় মশা নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে জনসচেনতা ও জনসম্পৃক্ততার কথা বলে থাকি। যখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের যোগাযোগ তৈরি হবে, তখনই জনসম্পৃক্ততা তৈরি হবে। এভাবে সব কর্মকাণ্ডে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।