থমকে আছে রাজধানীর মাঠ-পার্কের উন্নয়ন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

থমকে আছে রাজধানীর মাঠ-পার্কের উন্নয়ন

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই মেয়র-কাউন্সিলরদের

তোফাজ্জল হোসেন ১০:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

print
থমকে আছে রাজধানীর মাঠ-পার্কের উন্নয়ন

ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে। প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন প্রার্থীরা। মেয়র আর কাউন্সিলর সব প্রার্থীর প্রতিশ্রুতিতেই আছে খেলার মাঠ আর পার্কের উন্নয়নের বিষয়। কিন্তু নির্বাচনের অজুহাতে দুই সিটির উন্নয়ন কাজ থমকে আছে। বিশেষ করে খেলার মাঠ-পার্কের উন্নয়ন কাজ। জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠের সংস্কার কাজ চলছে। এর মধ্যে মাত্র কয়েকটির সংস্কার কাজ শেষে খুলে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারেনি।

আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ২২টি পার্ক ও চারটি খেলার মাঠ সংস্কার করে অত্যাধুনিকভাবে নির্মাণ করার কথা ছিল। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বেশ কয়েকটি খুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি কয়েকটির সংস্কার কাজ চলছে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দারা বলেন, গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চের পেছনের পার্কটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন টিনের বাউন্ডারি দিয়ে দীর্ঘদিন ঘিরে রেখেছে। এখানে কয়েক দিন কাজ চলার পর আবারও বন্ধ হয়েছে। এভাবে পার্কের কাজ চলতে থাকলে আগামী দুই বছরেও সমাপ্ত হবে না।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবাবগঞ্জ পার্ক, জগন্নাথ সাহা পার্ক, আজিমপুর পার্ক, বকশীবাজার পার্ক, বশির উদ্দিন পার্ক, হাজারীবাগ পার্কের উন্নয়ন কাজ চলছে। এদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের তাজমহল রোডের খেলার মাঠ ও পার্ক, গুলশান-২ এ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্ক এবং বনানী বি ব্লকের ১৮ নম্বর রোডে বনানী উইমেন এন্ড চিলড্রেন পার্কে কাজ চলমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের দিকে নাগরিক চাহিদা বিবেচনা করে দুই বছর মেয়াদি ডিএনসিসি ‘উন্নয়ন ও সবুজায়ন’ এবং ডিএসসিসি ‘জল সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের অধীনে ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে। এসব কাজের বাস্তবায়ন হয়েছে গড়ে মাত্র ৪৮ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংস্থাটির হাতে রয়েছে মাত্র পাঁচ মাস। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টার্গেটের মধ্যে কাজ শেষ না হলেও উন্নয়নের বড় একটি অংশ দৃশ্যমান হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। যেসব খেলার-পার্ক এখন উন্নয়নের কাজ চলছে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

ডিএসসিসিতে নানা ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে শুরু হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফ উদ্দীন খোলা কাগজকে বলেন, চলমান সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে এখন উন্নয়ন কাজ কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৯৯৫ সালের ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিএমডিপি) অনুযায়ী সে সময় মাথাপিছু উন্নয়ন ও সবুজায়নের পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৫ বর্গমিটার। ২০০৯ সালে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকায় মাথাপিছু উন্নয়ন ও সবুজায়নের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ০৫২ বর্গমিটার। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে শিশুদের মানসিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নাগরিকদের সুস্থ পরিবেশে অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।