যৌন হয়রানি বন্ধে নারীই প্রহরী

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬

যৌন হয়রানি বন্ধে নারীই প্রহরী

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

print
যৌন হয়রানি বন্ধে নারীই প্রহরী

নারীর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধে নারীই অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে বলে অঙ্গীকার করেছেন নারীরা। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংগ্রাম করে আজকের জায়গায় এসেছেন। তিনিও এক সময় গৃহিণী ছিলেন, তিনি পেরেছেন, আমরাও পারব। নারীরা এখন পুরুষতন্ত্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজেদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে চলছে। এই আন্দোলন চলছে, চলবে। পুরুষরা বলে সমস্যা আমাদের পোশাকে নয়, মানসিকতায়। পুরুষের মানসিকতা পাল্টাতে হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে ‘বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক’-এর ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে এই অঙ্গীকার করা হয়। ‘নারীরাই ক্ষুধামুক্তির মূল চাবিকাঠি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সহস্রাধিক নারী অংশ নেন।

আগারগাঁওয়ের এলজিইডি মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি তাদের এক গবেষণার ফল জানিয়ে বলেন, ৩৯২ নারীর মধ্যে জরিপ করে দেখা গেছে, ৯৭ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার। যাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ছয় বছর বয়সেই হয়রানির শিকার হয়েছে। আর এরা বেশিরভাগ পাবলিক প্লেসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। জলি এ সময় বলেন, নারীদেরই যৌন হয়রানি বন্ধ অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে হবে। আমরা কী সেই অঙ্গীকার করতে পারি?

এ সময় উপস্থিত নারীরা হাত তুলে ‘হ্যাঁ’ বলে তাকে সমর্থন জানান। তারা স্লোগান দেন- ‘আমরা নারী, আমরাই পারি’।
জলি আরও বলেন, নারীরা এখনো পিছিয়ে আছে। তারা জোরে হাসতে পারে না, কথা বলতে পারে না। আমরা এই জায়গাটার পরিবর্তন চাই। সে লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।

সম্মেলনে বিভিন্ন অঞ্চলের নারী প্রতিনিধিরা বলেন, স্বামীরা আমাদের সুন্দর কাপড় কিনে দেবেন আর আমরা ঘরে বসে সেমাই রান্না করব, তার জন্য আমরা নই। আমরা এখন একা চলতে পারি।

তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের উদাসীনতার কথা তুলে ধরে বলেন, নারীর প্রতি সমাজ হিংস্র, পরিবার নৃশংস, রাষ্ট্র উদাসীন। আমাদেরই এ পরিস্থিতি পাল্টাতে কাজ করতে হবে। বৈষম্যমূলক পুরুষতান্ত্রিক আইন সংশোধন করে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমার কন্যা যেন তার পিতার সম্পত্তিতে সমান অধিকার পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।