মুহূর্তেই নিথর ছয় শিশু

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মুহূর্তেই নিথর ছয় শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

print
মুহূর্তেই নিথর ছয় শিশু

রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় বেলুন ফোলানোর একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ছয় শিশু নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ১২ শিশুসহ আরও অন্তত ১৫ জন।

গতকাল বুধবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর মনিপুর স্কুলের রূপনগর শাখার বিপরীত দিকে ১১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে রূপনগর থানার পরিদর্শক অপারেশন মোকাম্মেল হক জানান।

তিনি বলেন, এক বেলুন বিক্রেতার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ভ্যানে করে গ্যাস সিলেন্ডার নিয়ে বেলুন ফুলিয়ে বিক্রি করছিল এক বিক্রেতা। পাশেই বস্তি এলাকা হওয়ায় অনেকেই ভ্যান ঘিরে এবং আশপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। কেউবা বেলুন কিনছিল।

এ সময় হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিস মিরপুরের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের কাছে মেসেজ ছিল একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরপর আমরা তিনটি ইউনিট সেখানে যাই। ঘটনাস্থলে চার শিশুর ডেডবডি দেখতে পাই। এরপর বস্তির ভিতরে আরেক শিশুর মরদেহ পাই। লাশগুলো উদ্ধার করে আম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তি ভ্যানগাড়িতে বেলুন বিক্রি করতেন। বেলুনে বাতাস ভরার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ভ্যান গাড়িটিও খণ্ড খণ্ড হয়ে গেছে।

নিহত পাঁচ শিশু হচ্ছে- রমজান (৮), নূপুর (৭), শাহীন (৯), ফারজানা (৬), রিয়া (৭) ও রুবেল (১১)। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিহত এক শিশুর অভিভাবক জানান, তার বোনের মেয়ে বাবার কাছে বেলুন কেনার বায়না ধরলে তার বাবা তাকে টাকা দিয়ে বেলুন কিনতে পাঠান। কিছুক্ষণ পরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে এসে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, রূপনগরের বিস্ফোরণের ঘটনায় আমাদের এখানে পাঁচ শিশুর মরদেহ এসেছে।

আহতাবস্থায় এসেছে পাঁচজন। এদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঢামেকে ভর্তি আহতরা হলো- জুয়েল (২৫), সোহেল (২৬), জান্নাত (২৫), বোন তানিয়া (৮), ভাই বায়েজিদ (৫), জামিলা (৭), অজ্ঞাত পরিচয় শিশু (৫- তার অবস্থা আশঙ্কাজনক), মীম (৮), ওজুফা (৯), মোস্তাকিম (৮), মোরসালিনা (৯), নিহাদ (৮), অর্নব ওরফে রাকিব (১০), জনি (১০) ও সিয়াম (১১)।

এদের মধ্যে প্রথম ১৪ জনকে হাসপাতালের জেনারেল বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সিয়াম বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খান বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢামেকে ভর্তি হওয়া এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোহেলের অবস্থাও ?গুরুতর। তানিয়া-বায়েজিদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম আছে। অন্যদের শরীরেও জখম রয়েছে।

জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ১০-১২টি শিশু রয়েছে। তাদের ‘কারও হাত নেই, কারও পা নেই, কারও নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে। কারও চেহারা ঝলছে গেছে। ছোপ ছোপ কালচে তাজা রক্ত রাস্তায় গড়াচ্ছে। ঘটনার সময় নিহতদের পাশাপাশি আহত শিশুরাও মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল। যে মানুষই এমন দৃশ্য দেখেছে, তার বুক আঁতকে উঠেছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

তিনি বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে। আহত ও নিহতদের পাশে দাঁড়াতে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।