দুপুরের পর পিয়াজ থাকে না টিসিবির ট্রাকে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৯ কার্তিক ১৪২৬

দুপুরের পর পিয়াজ থাকে না টিসিবির ট্রাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

print
দুপুরের পর পিয়াজ থাকে না টিসিবির ট্রাকে

রাজধানীতে পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় চারটি পণ্য খোলা ট্রাকে বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এই চারটি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে পিয়াজের। খুচরা বাজারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক মূল্যে বিক্রি হওয়া এই পিয়াজ দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে ক্রেতাদের মধ্যে শুরু হয় হাহাকার। তারা বলছেন, দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুরের পর আর পিয়াজ পাওয়া যায় না। বিষয়টি স্বীকার করেছেন টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকের ম্যানেজাররাও।

গতকাল রোববার নগরীর টিসিবির ট্রাকগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন গ্রাহকরা। প্রতি কেজি চিনি ৫০ টাকা, পিয়াজ ৪৫ টাকা, মসুর ডাল ৫০ টাকা ও সয়াবিন তেল (২ ও ৫ লিটার) প্রতি লিটার ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে পিয়াজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন ৫০০ কেজি করে পিয়াজ বিক্রি করা হয়। আর একজন গ্রাহক একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২ কেজি কিনতে পারবেন। এ হিসেবে প্রতিদিন একটি ট্রাক থেকে ২৫০ জন গ্রাহক পিয়াজ কিনতে পারছেন।

সকাল ১১টার দিকে খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইন। আর চাহিদা অনুযায়ী একজন-একজন করে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এখানে পণ্য বিক্রির ম্যানেজার হৃদয় বলেন, ‘আমরা বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকি। দুপুরের পর অন্য তিনটি পণ্য থাকলেও পিয়াজ শেষ হয়ে যায়। সেগুলো নিয়ে বসে থাকতে হয়। মানুষের বেশি চাহিদা পিয়াজের। তার দাবি দিনদিন মানুষের উপস্থিত বাড়ছে।’

পিয়াজ কিনতে আসা শাহজাহানপুরের বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘বাইরের দোকান থেকে পিয়াজ কিনতে গেলে ৯০-১১০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। সে কারণে এখানে এসেছি। দোকানের দামের অর্ধেকে এখানে পিয়াজ বিক্রি হয়। তবে পিয়াজ কেনার জন্য দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়।’

প্রায় একই কথা বলেন জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সচিবালয়সংলগ্ন এলাকার টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকের ম্যানেজার ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘পিয়াজ বেশি বিক্রি হচ্ছে। মানুষ অন্যান্য পণ্য তেমন একটা কিনতে চায় না। আজ ৫০০ কেজি পিয়াজ এনেছি এখন প্রায় শেষ। কিন্তু আমার অন্যান্য পণ্য রয়ে গেছে। বিক্রি করতে পারছি না।’

এই ট্রাকটি থেকে মসুর ডাল ও পিয়াজ কিনতে আসা সচিবালয়ের কর্মচারী তারিফুল মাওলা বলেন, ‘আমি মসুর ডাল ও পিয়াজ নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। শুনেছি পিয়াজের সঙ্গে অন্য কোনো পণ্য না কিনলে পিয়াজ দেওয়া হয় না। মানুষেরও অনেক ভিড় দেখতে পাচ্ছি। সকালেও এসেছি। কিন্তু মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখে তখন নিইনি। এখন দুপুর হয়েছে। তবু ভিড় কমেনি।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য টিসিবির সচিব মো. এনামুল হককে ফোন করলে তিনি সংস্থাটির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কথা বলার জন্য পরামর্শ দেন। কিন্তু একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।