পিয়াজের সঙ্গে সবজিও চড়া

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৯ কার্তিক ১৪২৬

রাজধানীর বাজারদর

পিয়াজের সঙ্গে সবজিও চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৪, ২০১৯

print
পিয়াজের সঙ্গে সবজিও চড়া

শীতের অধিকাংশ সবজিই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে চড়া দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে টানা বৃষ্টি। সুযোগে সরবরাহ কম দেখিয়ে দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। পুরোদমে শীত আসার আগেই বাজারে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বাজারে পিয়াজের দাম ও আলোচনা তুঙ্গে। গত বুধবার ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে পিয়াজের বাজারে যেন আগুন লেগেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী, কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বাজারে শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা। ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি।

মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিগুলোর দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। শীতের আগাম সবজির সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, টমেটো, করলা, গাজর, ঝিঙে, বরবটি, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, ধুন্দলসহ সব ধরনের সবজি। ছোট আকারের লাউ আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা পিস। পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি।

করলা ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, চিচিংগা, ঝিঙা, ধুন্দল ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। পেঁপে আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি। আর মিষ্টি কুমড়ার ফাঁলি পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকার মধ্যে।

মহাখালী বাজারের ব্যবসায়ী শাকিল মিয়া বলেন, বাজারে আস্তে আস্তে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ছে। বৃষ্টির কারণে দাম কমছে না। তবে বৃষ্টি কমে গেলে সবজির দাম কমে যাবে। এদিকে ভারতীয় পিয়াজের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে গত দুই সপ্তাহ থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে পিয়াজের দাম এক লাফে কয়েকগুণ হয়।

বিশেষ করে গত সপ্তাহে পিয়াজ এক লাফে ১০০-১২০ টাকা হয়ে যায়। গত বুধবার ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে পিয়াজের এমন দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই সপ্তাহ থেকে খোলাবাজারে পিয়াজ বিক্রি শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

বাজারে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১২-১১৫ টাকায়। সাদা বয়লার মুরগির কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকায়। লাল লেয়ার মুরগি ২১০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬৫০-৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি, পাবদা মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০-৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০-১৮০ টাকা ও পাঙ্গাস ১৪০-১৬০ টাকা, সরপুঁটি ১৬০-২০০ টাকা, চাষের কই ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি নাজির শাইল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর ২৮ নম্বর ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মসুর ডাল (দেশি) ১১০ টাকা, মসুর ডাল মোটা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ টাকা, ভোজ্যতেল প্রতি লিটার খোলা ৯০ টাকা ও বোতলজাত ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।