চালকের ছিল না লাইসেন্স

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৯ কার্তিক ১৪২৬

বাসচাপায় ফারহানাজের মৃত্যু

চালকের ছিল না লাইসেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

print
চালকের ছিল না লাইসেন্স

রাজধানীর মহাখালীর আমতলীতে বেপরোয়া বাসের (ঢাকা মেট্রো জ-১১-৩০০৩) চাপায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা ফারহানাজের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার শামীম ছৈয়ালকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বেশি যাত্রী পেতে বেপরোয়া মনোভাবের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন চালক শামীম। শনিবার তাকে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে শুক্রবার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে চালক শামীমকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ বিষয়ে ডিবি উত্তর বিভাগের এডিসি শাহজাহান সাজু বলেন, এ ঘটনায় বনানী থানায় দায়ের মামলাটি ডিবির কাছে হন্তান্তর করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়।

ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের এডিসি মো. জোনায়েদ আলম সরকার বলেন, ঢাকা-ভৈরব রুটের অনুমোদন নিয়ে বাসটির মালিক বনানী-কাকলী রুটে পরিচালনা করে আসছিলেন। শামীমের ড্রাইভিং লাইসেন্স হালকা ধরনের গাড়ি চালানোর জন্য অনুমোদিত ছিল। কিন্তু তিনি মাঝারি ধরনের বাস চালিয়ে আসছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, বাসটির সারা দিনে প্রায় চার হাজার টাকা আয় হলে তিনি পেতেন ৭০০ টাকা আর হেলপার পেতেন ৪০০ টাকা। বেশি টাকা রোজগারের তাগিদে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্বীকার করেছেন শামীম।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে ৯টার দিকে অফিসে যাওয়ার জন্য মহাখালীর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফারহানাজ। এ সময় একটি বাস বেপরোয়া গতিতে ফুটপাতের ওপর উঠে যায়। বাসের ধাক্কায় ফারহানাজের মৃত্যু হয়। এরপর চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

সড়ক পরিবহন আইন : মালিক-শ্রমিকদের চাপে না করার আহ্বান টিআইবির
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের আগেই সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া ও চাপের মুখে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ ছাড়াও মালিক-শ্রমিকদের জনস্বার্থবিরোধী, অন্যায্য চাপে প্রভাবিত হয়ে আইনটি না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া ও চাপে সরকার যদি নতিস্বীকার করে তা হবে আদালত অবমাননা ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। বিশেষ করে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক গঠিত কমিটির বৈঠকে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা দাবি-দাওয়া সড়ক পরিবহন আইন ভঙ্গের জন্য সাজার মেয়াদ কমানোর দাবিটি সরাসরি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ ছাড়া আইনের সব ধারা জামিনযোগ্যসহ অর্থদণ্ড হ্রাস করা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করা ইত্যাদি অধিকাংশ দাবি-দাওয়া সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় সুশাসন, ন্যায়বিচার, জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কোনোভাবেই সহায়ক হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের এ সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে তুলনামূলক পর্যালোচনা ও সামঞ্জস্যের যুক্তি উল্লেখ করা হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের চাপে প্রভাবিত হয়েই যে আইনটিকে দুর্বল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, তা সহজেই বোধগম্য। স্বার্থের সংঘাতে জর্জরিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদই ষড়যন্ত্রের কাছে নতজানু হয়ে একদিকে সড়ক পরিবহনের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্যের সুরক্ষার পথ অবলম্বন করছে অন্যদিকে বিশ্বনন্দিত নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিশুকিশোর শিক্ষার্থীদের দাবিকে অবজ্ঞা করার চরম নিষ্ঠুর দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।’

এদিকে নিরাপদ সড়কসহ সড়ক পরিবহন খাতে জবাবদিহি, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শিশুকিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে সরকার ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ পাস করলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিক পক্ষ আইনটির বিরোধিতা করে তা বাতিলের দাবিতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ পর্যায়ে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইনটির উল্লেখিত পরিবর্তন এ খাতে নৈরাজ্য নিরসনে গৃহীত সব অগ্রগতিকেই হুমকির মুখে ফেলে দেবে। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের নতিস্বীকার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।’

একই সঙ্গে, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় সুশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও দুর্ঘটনারোধে প্রধানমন্ত্রীর ছয় নির্দেশনার আলোকে আইনটির যথাযথ বাস্তবায়নে অনতিবিলম্বে এর বিধিমালা প্রণয়ন এবং তরুণ প্রজন্মসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে উপ-কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছে দাখিল করতে যাচ্ছেন বলে জানান। এরপরই টিআইবির পক্ষ থেকে এই বিবৃতি এলো।