রোকেয়া এখনো অচেতন

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

রোকেয়া এখনো অচেতন

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

print
রোকেয়া এখনো অচেতন

জোড়া মাথার দুই বোন রাবেয়া ইসলাম ও রোকেয়া ইসলামের অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে রাবেয়া জেগে উঠেছে। চিনতে পেরেছে মাকে, উঠতে চেয়েছে মায়ের কোলে। অন্যদিকে আরেক বোন রোকেয়া ইসলাম এখনো অচেতন, ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাকে।

বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির একদল চিকিৎসক ৩৩ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাবনার জোড়া মাথার এ দুই বোনকে আলাদা করেন গত ২ আগস্ট। দফায় দফায় ৪৪ ধরনের অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে তাদের আলাদা করার কাজটি শেষ হয়। এর মধ্যে কয়েকটি হয় হাঙ্গেরিতে। গতকাল শনিবার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিন বছর বয়সী এ দুই বোনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে এসে চিকিৎসকরা বলেন, জটিল এসব অস্ত্রোপচার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, তবে এখন পর্যন্ত সফলতা মিলেছে। এমন কোনো জটিলতার মুখে পড়তে হয়নি, যার অনুমিত ছিল না। তবে এ পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে তাতে চিকিৎসকরা আশাবাদী বলে মন্তব্য করেছেন।

গত শুক্রবার সকালে রাবেয়া চোখ মেলেছে জানিয়ে তাদের মা তাসলিমা খাতুন চোখ মুছতে মুছতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ও আম্মু বলে ডেকেছে, কোলে নিতে বলেছে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় মূলগ্রাম ইউনিয়নের শিক্ষক দম্পতির সন্তান রাবেয়া ও রোকেয়ার জন্ম ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই। তাদের বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা তাসলিমা খাতুন ওই এলাকার অমৃতকু- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। দুই বোনের চিকিৎসায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। খ্যাতনামা এ চিকিৎসক জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তারা রাবেয়া-রোকেয়াকে আলাদা জীবন দেওয়ার কঠিন চেষ্টায় হাত দেন। এ চেষ্টায় তাদের সঙ্গী হয়েছেন হাঙ্গেরির একদল চিকিৎসক। কেবল হাঙ্গেরির অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল ফাউন্ডেশনের (এডিপিএফ) এ চিকিৎসকরই এ জটিল কাজে হাত দিতে রাজি হয়েছিলেন।

সামরিক চিকিৎসা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান জানান, জোড়া মাথার শিশুদের আলাদা করার জন্য বিশ্বে এ ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে এ পর্যন্ত ১৭টি। তার মধ্যে মাত্র পাঁচজোড়া শিশু এখনো বেঁচে আছে। রাবেয়া-রোকেয়াকে আলাদা করার পর তাদের ত্বক ও টিশু যাতে দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য ‘ইমপ্ল্যান্টিং এক্সপান্ডার’ নামের নতুন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিশ্বে প্রথম।

সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ অস্ত্রোপচার একটি মাইলফলক। দিনটা আমরা সব সময় স্মরণ করব। পৃথিবীতে এ ধরনের অস্ত্রোপচার খুব কম হয়েছে। সেগুলোর একটি আমাদের হাত দিয়ে হলো। বাংলাদেশের জন্য এটা অনেক বড় অর্জন। আমরা কখনো ভাবিনি এ ধরনের অস্ত্রোপচার সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উৎসাহ আর নির্দেশনাতেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন চিকিৎসা থেকে রাজনীতিতে আসা এ সংসদ সদস্য।