‘উলফ প্যাক’-র পাঁচ জঙ্গি গ্রেফতার

ঢাকা, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘উলফ প্যাক’-র পাঁচ জঙ্গি গ্রেফতার

টার্গেট ছিল পুলিশের ওপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৯

print
‘উলফ প্যাক’-র পাঁচ জঙ্গি গ্রেফতার

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নব্য জেএমবির ‘উলফ প্যাক’ এর পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। ‘উলফ প্যাক’ জঙ্গিদের টার্গেট ছিল সুবিধাজনক সময়ে পুলিশের ওপর হামলা করা। তারা ‘এক্সক্লুসিভ ডিভাইস বা আইডি’ তৈরির যন্ত্রাংশও সংগ্রহ করেছিল।

এমনকি তারা যে হামলার জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করেছিল। পুলিশের ওপর ক্ষোভ ও মনোবল ভাঙ্গা করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। গ্রেফতার পাঁচজনই শিক্ষার্থী।

গ্রেফতারকৃত জঙ্গিরা হলেন- মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে শাদী, শাহ এম আসাদল্লাহ মুর্তজা কবীর ওরফে আবাবিল, মাসরিক আহমেদ, মো. আশরাফুল আল আমীন ওরফে তারেক ও এস এম তাসমিন রিফাত।

গতকাল শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সিটিটিসির এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, সিটিটিসি সদস্যরা দীর্ঘ নজরদারি করে ওই জঙ্গি সদস্যদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়। এরপরই তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই শিক্ষার্থী এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা পুলিশের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে সাদী। বাকিরা তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছিল।

এদের মধ্যে মোহাম্মদ শিবলী আজাদ ওরফে সাদী ও শাহ এম আসাদল্লাহ মুর্তজা কবীর ওরফে আবাবিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, সাদী হামলার জন্য এক্সক্লুসিভ ডিভাইস বা আইডি’ তৈরি করার যন্ত্রাংশও সংগ্রহ করেন। সর্বশেষ রাজধানীর দুটি জায়গা থেকে যে দুইটি আইডি উদ্ধার করা হয় তার সঙ্গে এসব যন্ত্রাংশের মিল রয়েছে। আর শাহ এম আসাদল্লাহ মুর্তজা কবীর ওরফে আবাবিল একদিকে আধ্যাত্মিক নেতা এবং সে এই হামলার জন্য অর্থ জোগান দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে তিনি কিছু অর্থ এই হামলার জন্য জোগাড় করেন। মাসরিক আহমেদ এর দায়িত্ব ছিল এ হামলার জন্য যশোর সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পারাপার করে নিয়ে আসা। আর বাকি দুইজন সদস্য সংগ্রহের জন্য চেষ্টা করে আসছিল।

তিনি বলেন, প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে তারা পুলিশের উপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। পুলিশকে ভীত করার জন্য এই হামলার পরিকল্পনা। এছাড়া পুলিশের উপরে হামলা করলে সাধারণ মানুষ যেন আরও ভীত হয় সেই ভাবনাও তাদের উৎসাহিত করেছে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, এই পরিকল্পনায় গ্রেফতার ৫ জনের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে আরও তথ্য জানা যাবে। তারা যে হামলার জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করেছিল তা কৌশলগত কারণে আমরা বলছি না।