ঈদে টালমাটাল মসলার বাজার

ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

রাজধানীর বাজারদর

ঈদে টালমাটাল মসলার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৯

print
ঈদে টালমাটাল মসলার বাজার

ঈদুল আজহা সামনে রেখে সব ধরনের মসলার দাম বেড়ে গেছে। কেজিতে এক হাজার টাকা বেড়ে এলাচ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়। ঊর্ধ্বমুখী জিরা, দারুচিনি ও গোলমরিচের দামও।

প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বেশি থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগান কিছু অসৎ ব্যবসায়ী। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারিতে মসলার দাম বেড়ে গেছে। এজন্য এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মসলা আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির ঈদে বেশি চাহিদার তিনটি মসলা এলাচ, দারুচিনি ও জিরা। যার সবগুলোর দামই বেড়েছে। মাসখানেক আগে যে এলাচ প্রতি কেজি বিক্রি হতো ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। এদিন একই এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকায়।

এ ছাড়া দারুচিনি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা। জিরা কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। কিশমিশ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোলমরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। কালো গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা আর সাদা গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। মানভেদে প্রতি কেজি জয়ফল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, জয়ত্রী ২ হাজার টাকা, লবঙ্গ ৮৫০, কাঠবাদাম ৮৫০, তেজপাতা ১৫০ টাকা থেকে ১৮০, পেস্তাবাদাম ২ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মসলা বিক্রতা নাজিম উদ্দিন জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই মসলার দাম বেড়েছে। ঈদের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

মসলা কিনতে আসা আরমান নামে এক ক্রেতা জানান, জিরা, এলাচ সব মসলার দাম বেড়েছে। প্রতি ঈদে বাড়ায়, এবারও বাড়িয়েছে। ঈদকে পুঁজি করে বাড়তি মুনাফা করছেন ব্যবসায়ীরা। এটি দেখার কেউ নেই।

এদিকে দাম নিয়ন্ত্রণে মসলার বাজারে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল বলেন, কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বেশি থাকে। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। দাম নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি মসলার বাজারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অযৌক্তিক দাম না বাড়াতে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে বন্যার কারণে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সব ধরনের সবজির দাম চড়া রয়েছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম নতুন করে বাড়েনি। কয়েকটি সবজির কেজি ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। এ ছাড়া বেশির ভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি এবং শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এ তিনটি পণ্য এমন দামে বিক্রি হচ্ছে। সব থেকে বেশি দাম বেড়েছে বেগুনের। ৩০ টাকা কেজি থেকে বেগুনের দাম এক লাফে ৮০ টাকায় পৌঁছে যায়।

গত সপ্তাহের মতো বাজারভেদে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। বেগুন, শসা, টমেটো ও গাজরের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, ঝিঙা, ঢেঁড়শ, শিম ও ধুন্দলের কেজি ৫০ থেকে ৭০, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস।

এদিকে গত সপ্তাহে কিছু কিছু বাজারে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ও মানভেদে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। আর দেশি পিয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের মতো ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, পাকিস্তানি কক মুরগি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি, একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।