দশ তলার গ্রিল ধরে ঝুলেছিল মেয়েটি

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দশ তলার গ্রিল ধরে ঝুলেছিল মেয়েটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৯

print
দশ তলার গ্রিল ধরে ঝুলেছিল মেয়েটি

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে দশতলার উপরের বারান্দার বাইরে ঝুলছিল খাদিজা (১৫) নামের মেয়েটি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে সার্কিট হাউস রোডের ১৫তলা ভবন ‘গাউছিয়া ডাইনেস্টি’তে এ চিত্র দেখা গেছে। সে জানালার বাইরে থাকা অবস্থাতে বারান্দায় একজন মহিলাও হাঁটাহাঁটি করছিলেন। একটু ফসকে গেলেই বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেত পারত মেয়েটির জীবনে।

এমন দৃশ্য দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হলে রমনা থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একদল সদস্য ভবনের দশম তলায় যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই মহিলার নাম লাভলী রহমান। তিনি নিজেকে একজন মানবাধিকারকর্মী বলে দাবি করেন। লাভলী রহমান ও ওসি জহিরুল ইসলাম পূর্বপরিচিত।

ফ্ল্যাটের বারান্দায় ঝুলে থাকা মেয়েটির বিষয়ে জানতে চাইলে লাভলী রহমান বললেন, যে মেয়েটি ঝুলে ছিল তার নাম খাদিজা। খাদিজা ও হেলেনা তার দুই গৃহকর্মী রয়েছে।

লাভলী রহমানের দাবি, ওই দুই গৃহকর্মীর মাঝে মধ্যেই ঝগড়া হয় এবং ঝগড়ার একপর্যায়ে খাদিজা বারান্দার বেষ্টনীর ফোকর গলে বাইরে ঝুলে থাকে। একপর্যায়ে লাভলী রহমান সবার সামনেই খাদিজাকে গালাগাল করেন।

কিছুক্ষণ পরই লাভলী রহমান আবু বকর নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে খাদিজাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলেন।

লাভলী জানান, আবু বকর খাদিজার মামা এবং তিনিই এক বছর আগে খাদিজাকে তার কাছে রেখে যান। খাদিজার বাড়ি সিলেটে।

এরপর ওসি জহিরুল ইসলাম লাভলী রহমানকে খাদিজাকে ডেকে আনতে অনুরোধ করেন। প্রথমে তিনি কয়েকবার অনুরোধ করার পরও ভেতর থেকে খাদিজা আসে না।

একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম নিজেই গিয়েই খাদিজাকে বসার ঘরে আনেন। এ সময় খাদিজাকে সোফায় বসতে বললে লাভলী রহমান বাধা দিয়ে বলেন, ‘ও আমার চাকর, ও কেন বসবে! ও দাঁড়িয়েই থাকবে।’ এ পর্যায়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাভলীকে রহমানকে অন্য ঘরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

লাভলী চলে যাওয়ার পর পুলিশের ওই কর্মকর্তা খাদিজার কাছে জানতে চান, ‘কেন এমনটি করেছে।’ কিন্তু খাদিজার কোনো উত্তর নেই। বারবার প্রশ্ন করেও খাদিজার মুখ থেকে কোনো কথা বের করা যায়নি। পরে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো কেউ তাকে মারধর করে কিনা। সে মাথা নেড়ে জানাল, কেউ তাকে মারে না। কিন্তু জানা গেল না, কেন সে বারান্দার বাইরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে ছিল।

বের হওয়ার সময় লাভলী পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলামকে জানান, তিনি খাদিজার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন। ভবন ম্যানেজার আবদুস সাত্তার জানান, খাদিজা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। খাদিজাকে তিনি আজই (মঙ্গলবার) প্রথম দেখলেন।