কথা রাখেনি চক্রাকার বাস কর্তৃপক্ষ

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

কথা রাখেনি চক্রাকার বাস কর্তৃপক্ষ

ছাইফুল ইসলাম মাছুম ১০:৫০ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৯

print
কথা রাখেনি চক্রাকার বাস কর্তৃপক্ষ

বুয়েটের শিক্ষার্থী পল্লব মজুমদার। থাকেন ধানমন্ডির শংকরে ভাড়া বাসায়। আগে ক্যাম্পাসে যেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো তাকে। সায়েন্সল্যাব, আজিমপুর হয়ে ক্যাম্পাসে যেতে অন্তত বদল করতে হতো দুটো গাড়ি। সম্প্রতি ধানমন্ডি আজিমপুর চক্রাকার এসি বাস চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল পল্লবের মনে। কারণ এই সার্ভিসের শেষ গন্তব্য বুয়েটের পাশের পলাশী মোড়। শুধু পল্লব নন, চক্রাকার বাস সার্ভিসে দারুণ খুশি হয়েছিলেন এই রুটে চলাচলকারী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ। কিন্তু এসি সার্ভিস চলার কিছুদিন পরই ফিকে ধরে যাত্রীদের হাসি মাখা মুখে।

চলতি বছর ২৭ মার্চ রাজধানীর আজিমপুর-নিউমার্কেট-ধানমন্ডি রুটে বিআরটিসির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চক্রাকার বাস সার্ভিস উদ্বোধন করার সময় বলা হয়েছিল এই রুটে বিআরটিসির ২০-২৫টি এসি বাস চলাচল করবে। সব মিলিয়ে ৩৬টি স্পটে থামবে বাসগুলো এবং নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করবে। কাউন্টার ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে যাত্রী তুলবে না এসব বাস। কাউন্টারে পাঁচ মিনিট পর পর একটি করে বাস আসবে। এই বাসগুলোর বাইরে এই এলাকায় অন্য কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করবে না। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা ‘কেউ কথা রাখেনি’র মতো এই রুটের যাত্রীদের সঙ্গে কথা রাখতে পারেনি বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০-২৫টি এসি বাস চলার কথা থাকলেও চলছে মাত্র ১৬টি। এখন কর্তৃপক্ষ বলছে, এসি বাস রয়েছে ১৯টি, বর্তমানে তিনটি বাস আনফিট রয়েছে। কথা ছিল পাঁচ মিনিট পর পর কাউন্টারে বাস আসবে, সেখানে ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দেখা মিলছে না বাসের। কাউন্টারের বাইরে যাত্রী ওঠা নামার, কথা না থাকলেও, যত্রতত্র উঠানো হচ্ছে যাত্রী, উঠানো হচ্ছে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী। এই রুটে অন্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল করার কথা না থাকলেও, ঠিকই চলছে মোহাম্মদপুর থেকে আজিমপুর ১৩ নম্বর লোকাল বাস।

পল্লব মজুমদার খোলা কাগজকে বলেন, ‘প্রচ- গরমে, একটু আরাম করে ক্যাম্পাসে যাব বলে বেরিয়ে ছিলাম বাসা থেকে। শংকর বাস স্পটে টিকিট কেটে এক ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থেকেও এসি বাসের দেখা পাইনি’। তিনি বলেন, এসির আরামের কথা ভেবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গরমে দাঁড়িয়ে থেকে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি।

এসি বাস সার্ভিস, প্রচ- গরমে যেন একটু শান্তির পরশ। কিন্তু ঠিক উল্টোটা হচ্ছে এখানে। এই রুটে মাঝে মাঝে যাওয়া আসা করেন স্টামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজা খাতুন স্বপ্না। স্বপ্না খোলা কাগজকে বলেন, ‘একটু আরামের আশায় এসি বাসে উঠি, কিন্তু বাসে এত বেশি যাত্রী উঠানো হয়, পুরো বাস মাছ বাজারের মতো অবস্থা হয়ে যায়। তখন স্বস্তির বদলে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়’।

যাত্রীদের অভিযোগের পরও, যাত্রীসেবা বাড়াতে মনোযোগ নেই বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের, তারা ভাবছে বাণিজ্যের কথা। প্রতিটি বাসে সাঁটানো রয়েছে বিআরটিসির বিলাসবহুল এসি বাস রিজার্ভ ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞাপন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিসি মতিঝিল বাস ডিপোর ট্রাফিক প্রধান জাফর আহমেদ খোলা কাগজকে বলেন, ‘ধানমন্ডি আজিমপুর চক্রাকারে এসি বাস চালু হওয়ায় যাত্রীদের কাছে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু অভিযোগ আসছে, যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা, অতিরিক্তি যাত্রী পরিবহন। তবে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করে অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি, যাত্রীসেবার মান বাড়াতে কাজ করছি।’

পাঁচ মিনিটের বদলে ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাস না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জাফর আহমেদ জানান, মাঝে মাঝে এমনটা হয়। তবে অনেক বিলম্ব করে বাস আসার জন্য তিনি যানজটকে দায়ী করছেন।

প্রসঙ্গত, বাসরুট রেশনালাইজেশন আওতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বিআরটিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ধানমন্ডি, নিউমার্কেটে, আজিমপুর চক্রাকারে এসি বাস চালু করেছে। এই রুটে এসি বাস চলে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। বাসের টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ১০ টাকা, ২০ টাকা ও ৩০ টাকা।

চক্রাকার এই বাস সার্ভিস মূলত দুটি রুটে চলাচল করে। এর মধ্যে প্রথম রুটটি হলো আজিমপুর থেকে নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব, ধানমন্ডি ২ নম্বর রোড, সাত মসজিদ রোড (জিগাতলা, শংকর), ধানমন্ডি ২৭, সোবহানবাগ, রাসেল স্কয়ার, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব, বাটা সিগন্যাল (এলিফ্যান্ট রোড), কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী হয়ে ফের আজিমপুর।

অন্যদিকে দ্বিতীয় বাসটি সোবহানবাগ থেকে শুরু করে রাসেল স্কয়ার, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব, বাটা সিগন্যাল (এলিফ্যান্ট রোড), কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব, কলাবাগান, সোবহানবাগ, ২৭ নম্বর রোড পূর্ব মাথা থেকে পশ্চিম মাথা, সাত মসজিদ রোড, বিজিবি ২ নম্বর গেট, ধানমন্ডি ৩ নম্বর রোড ইউটার্ন, সায়েন্স ল্যাব, বাটা সিগন্যাল (এলিফ্যান্ট রোড), কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, আজিমপুর হয়ে আবারও নিউমার্কেট।