ঢাকায় প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন নভেম্বরে

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ঢাকায় প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন নভেম্বরে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
🕐 ৭:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২২

ঢাকায় প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন নভেম্বরে

চলতি বছরের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ৩৭তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন। পাশাপাশি ১২-১৮ নভেম্বর ঢাকায় ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ অনুষ্ঠিত হবে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশন (আইএএফ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নীটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এর সহযোগিতায় এই কনভেনশনের আয়োজন করবে।

গতকাল শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষনা দেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ও আইএএফ এর মহাসচিব ম্যাথিয়াস ক্রিয়েটি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ এর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজিএমইএ-এর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল। সংবাদ সম্মেলন শেষে ৩৭তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন এবং মেইড ইন বাংলাদেশ উইক এর লোগোও উন্মোচন করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘যেহেতু আমরা নির্দিষ্ট মাত্রার প্রবৃদ্ধি এবং গতি অর্জন করেছি, তাই এখন প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সময় এসেছে। অগ্রগতি এবং সম্ভাবনাগুলো পাশ্চাত্যের কাছে আমাদেরকে অন্যতম সাসটেইনেবল সোর্সিং পার্টনার করে তুলেছে এবং এই অবস্থান ধরে রাখার জন্য আমাদেরকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ৩৭তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন আরও টেকসই উৎপাদন ও সোর্সিং নিশ্চিত করতে ক্রেতা, সরবরাহকারী ও বৈশ্বিক ষ্টেকহোল্ডারসহ সরবরাহ চেইনের মূখ্য ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে একটি বৃহত্তর সহযোগিতা গড়ে তোলার সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ পোশাক শিল্পের আকর্ষনীয় ইতিবাচক দিকগুলো উপস্থাপনের পাশাপাশি, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্বে একটি নিরাপদ, টেকসই এবং প্রতিযোগিতামূলক শিল্প হিসেবে অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যবসায়িক সক্ষমতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টাগুলো অব্যাহত রাখবে, তা বিশ্বকে বলার জন্য আমাদেরকে এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দিবে।

আইএফএ-এর মহাসচিব ম্যাথিয়াস ক্রিয়েটি বলেন, ‘সম্ভবত আগের যে কোন সময় থেকে পোশাক প্রস্তুতকারকগণ এখন শিল্প রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যা আমাদের দরকার। তাই, ৩৭তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন উপস্থাপিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে, বাংলাদেশি পোশাক শিল্প, শিল্পের বর্তমান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধানের উৎস হিসেবে নিজেকে তুলে ধরবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইএএফ কনভেনশনটি ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ১ম দিনে আইএএফ এর বোর্ডের সকল পরিচালকদের অংশগ্রহণে একটি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। কনভেনশনের অংশ হিসেবে একটি দিনব্যাপী সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বক্তাগণ অংশগ্রহণ করবেন।

এতে ব্র্যান্ড, রিটেইলার, সরবরাহকারীগণ (সাপ্লায়ার্স), শিল্প নেতা এবং একাডেমিকসহ বক্তারা ব্যবসার বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধানগুলোর উপর আলোকপাত করবেন, যার উদ্দেশ্য হবে শিল্প-ব্যাপী প্রচেষ্টা গ্রহণ করে সকলের জন্য একটি উত্তম ফ্যাশন ইন্ডাষ্ট্রি নিশ্চিত করা।

বাৎসরিক ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন ৪০টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী পোশাক শিল্প সমিতি, নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড এবং অন্যান্য ষ্টেকহোল্ডারসহ আইএএফ এর সকল সদস্যগণকে একত্রিত করবে। কনভেনশনটি প্রতিনিধি এবং অংশগ্রহণকারীগণকে নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিল্পের ভবিষ্যত দিক বিষয়ে ধারণা প্রদানে সহায়তা করবে।

বিজিএমইএ কর্তৃক আয়োজিতব্য ‘দি মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’-এর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ইতিবাচক, চিত্তার্কষক আখ্যানগুলো, বিশেষ করে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের কল্যাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিল্প যে অনন্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেগুলো উপস্থাপন করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পোশাক শিল্পকে তুলে ধরা।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উৎসাহব্যাঞ্জক গল্পগুলো বলার পাশাপাশি এ শিল্পের সম্ভাবনা, শিল্পের শক্তি, সক্ষমতা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের কাছে অগ্রাধিকার পাওয়া এবং প্রতিযোগিতামূলকভাবে পছন্দসই থাকার জন্য শিল্পের ভবিষ্যত অগ্রাধিকারগুলো বৈশ্বিক ক্রেতা এবং বিশ্ববাসীর মাঝে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।

সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে থাকবে-৩৭ তম আইএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন, ৩য় ঢাকা অ্যাপারেল সামিট, বাংলাদেশ পোশাক প্রদর্শনী, ডেনিম এক্সপো, সাসটেইনেবল ফ্যাশন এ্যাওয়ার্ড এবং ফ্যাশন ফট্রোগ্রাফী এ্যাওয়ার্ড এর মতো পুরস্কার অনুষ্ঠান, ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক উৎসব, বিজিএমইএ ইনোভেশন সেন্টার এর গ্লোবাল লঞ্চিং।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ-এর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. শহিদউল্লাহ আজিম, সহ-সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি মিরান আলী, সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক ব্যারিষ্টার শেহরিন সালাম ঐশী, পরিচালক আসিফ আশরাফ, পরিচালক মো. খসরু চৌধুরী, পরিচালক ব্যারিষ্টার ভিদিয়া অমৃত খান, পরিচালক ইনামুল হক খান (বাবলূ), পরিচালক মো. ইমরানুর রহমান, পরিচালক হোসনে আরা নীলা, বিকেএমইএ-এর সহ-সভাপতি আখতার হোসেন অপূর্ব।

 

 

 
Electronic Paper