কাজ শেষ করার আগেই ধসে গেল বাঁধ

ঢাকা, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

কাজ শেষ করার আগেই ধসে গেল বাঁধ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ৮:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

print
কাজ শেষ করার আগেই ধসে গেল বাঁধ

বরগুনার আমতলী উপজেলার মধ্য সোনাখালী গ্রামের আবুল মেম্বারের বাজার সংলগ্ন স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ করার আগেই ধসে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদার স্বপন মৃধা নিম্নমানের কাজ করায় এ বাঁধ ধসে গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্য সোনাখালী গ্রামের আবুল মেম্বারের বাজার সংলগ্ন তাফালবাড়িয়া নদী। বর্ষার মৌসুমে ওই নদীর প্রবল স্রোতে বাজার সংলগ্ন ১৩০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এতে ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে জমির ফসল ও চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়ে ওই সকল গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

ওই ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষ রক্ষায় এবং নদীর ভাঙ্গন রোধে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ইমারজেন্সি প্রকল্পের অধীনে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গত বছর নভেম্বর মাসে বাঁধ নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই কাজ পায় পটুয়াখালীর আজাদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার স্বপন মৃধা নির্মাণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। ওই বাঁধের জন্য কাগজে কলমে দুই হাজার ৩০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত দেখানো হলেও বাস্তবে তা করা হয়নি এমন অভিযোগ স্থানীয় বারেক প্যাদা ও মনির হাওলাদারের। তারা আরো অভিযোগ করেন বাঁধ রক্ষায় বাঁশের পাইলিং দেওয়া হলেও তার ছিল নড়বড়ে।

আট দিনের মাথায় নড়বড়ে পাইলিং ভেঙে জিও ব্যাগ নদীতে ধসে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ওই বাঁধ। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের কাজ করায় আসছে বর্ষার মৌসুমে পানির স্রোতে বাঁধ ভেঙে যাবে।

স্থানীয় নান্নু প্যাদা বলেন, ঠিকাদার স্বপন মৃধা পাইলিং না করেই জিও ব্যাগ ফেলেছেন। ফলে বাঁধে জিও ব্যাগ দেওয়ার আটদিনের মধ্যেই ধসে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ঠিকদার নিম্নমানের কাজ করায় বৃষ্টি এলেই ওই বাঁধ ভেঙ্গে যাবে।

ঠিকাদার স্বপন মৃধার তত্বাবধায়ক মো. সেলিম মিয়া বলেন, ঠিকাদার আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি সেইভাবে কাজ করছি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আজিজুর রহমান সুজন বলেন, ধসে যাওয়া স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ ঠিক করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদার স্বপন মৃধাকে বলা হয়েছে। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার স্বপন মৃধা বলেন, কোন অনিয়ম করা হয়নি।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে আমার ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্ভোগ লাঘবে সরকার টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ পেয়ে ধসে যাওয়া বাঁধ সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। আসছে বর্ষায় ওই বাঁধ টিকবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলৗ মো. কায়সার আলম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।